‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নিজের কৃতকর্মের ফল ভুগছেন এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার সংখ্যালঘু মহিলা কংগ্রেস সদস্যের উদ্দেশ্যে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করায় চরম বিপাকে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিসভায় (হাউজ অব রিপ্রেসেন্টেটিভে) ভোটাভুটি হয়। বেশির ভাগ সদস্যই ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ফলে হাউজের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের কাছেই ভর্ৎসিত হলেন ট্রাম্প।
হাউজের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন ভোটাভুটি হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে ওই মন্তব্যের জন্য ট্রাম্পকে নিন্দা করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৪০ জন সদস্য এবং নিন্দা করার বিপক্ষে, অর্থাৎ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৮৭ জন সদস্য। রিপাবলিকানদের অনেকেই যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
গোটা ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। মার্কিন কংগ্রেসের চার ‘অ–শ্বেতাঙ্গ’ এবং সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাটের নাম না করে টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যেখান থেকে এসেছেন, সেখানেই ফিরে যান।’ তা নিয়ে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়। নিন্দায় সরব হন রিপাবলিকানরাও। যদিও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন ট্রাম্প। টুইটে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ সমাজতান্ত্রিক বা কমিউনিস্ট দেশ হবে না। তাই যাঁরা খুশি নন, চলে যেতে পারেন।’‌ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন মিত্র দেশ ব্রিটেন এবং কানাডার রাষ্ট্রপ্রধানরা। 
ওই চার তরুণীকে উদ্দেশ্য করে পর পর চার দিন টুইট করে গিয়েছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ টুইটে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশকে যখন এত ঘৃণা, এখান থেকে বিদায় হন।’ জাতি ও বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ খারিজ করে তাঁর দাবি, ‘আমার শরীরের একটা হাড়েও জাতি বা বর্ণবিদ্বেষ নেই।’
এই চার তরুণী হলেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কোর্তেজ, ইলান ওমর, রশিদা তালিব এবং আইয়ানা প্রেসলি। ট্রাম্পের এই বার বার আক্রমণের পরেও কোনো ভাবেই দমতে রাজি নন তাঁরা। তাঁদের সাফ বক্তব্য স্বাস্থ্যক্ষেত্র, অস্ত্র-হিংসা এবং বিশেষ করে মেক্সিকো সীমান্তে আটক শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প যে ভাবে কাজ চালাচ্ছেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা। 
ইলান এবং রশিদা একযোগে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছেন। ইলানের মতে, ট্রাম্পের নির্লজ্জ বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণ ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের প্রকল্পের মধ্যেই পড়ে।’ প্রতিনিধিসভার নতুন এই মুখ জোর দিয়ে বলছেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশকে ভাগ করতে চান। তাই ওঁর বিদেশি–ভীতি ও বর্ণবিদ্বেষমূলক চিন্তার ধারাবাহিকতায় কোনও ছেদ নেই।’ ভোটাভুটির মধ্যে দিয়ে খোদ রাষ্ট্রপ্রধানের নিন্দায় সরব গোটা মার্কিন হাউজ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top