আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুসপ্তাহ পরও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভোটে নিজের হার স্বীকার করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টে আদালতে মামলা দায়ের করে ভুয়ো ভোটের অভিযোগ করেছেন। যদিও এপর্যন্ত তাঁর সব পিটিশনই নাকচ করে দিয়েছে আদালত। তাও হার মানেনি ট্রাম্প শিবির।
ভোটের ফল উল্টে দিতে ট্রাম্প শিবির এই পথগুলি নিতে পারে যেমন— আইনি পদক্ষেপ করে বা রিপাবলিকান অফিসারদের এব্যাপারে উৎসাহিত করে বেশিরভাগ স্টেটে ভোটের শংসাপত্র জারির প্রক্রিয়া আটকে দিতে পারেন। রিপাবলিকান লেজিসেটরদের ক্ষমতাধীন যে সব স্টেটে বাইডেন খুব কম ভোটে জিতেছেন, তাঁদের বলতে পারেন ভুয়ো ভোটের অভিযোগ তুলে পপুলার ভোটের ফল বাতিল করে দিতে। তারপর ওই সব লেজিসটেররা আগামী ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল কলেজের যে ভোট দেবেন তা তাঁরা ট্রাম্পকেই দেবেন। উইকনসিন, মিশিগান এবং পেলসিনভ্যানিয়া স্টেটে এটা করতে পারলে ২৩২ ভোট পাওয়া ট্রাম্প ২৬৯ ভোটের মার্জিন ছুঁতে পারবেন। বাইডেন যে ৩০৬টি ভোট পেয়েছেন সেখান থেকে তাঁকে টেনে নামাতে হলে ভোটের সিদ্ধান্ত হবে হাউজ অফ রিপ্রেজেনটেটিভস্‌–এ। সেখানে ডেমোক্র‌্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ট্রাম্প আইনি মতে কিছু সুবিধা পেতেও পারেন।
ট্রাম্প মানুষের উপর চাপ দিচ্ছেন যাতে তাঁরা যাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন তা বদল করতে পারেন। কারণ আমেরিকাতে জনতা স্টেট ইলেক্টরকে নির্বাচিত করেন। সেই ইলেক্টর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। ইলেক্টররা সাধারণত ইলেক্টোরেটের ইচ্ছামতোই ভোট দেন। আগামী সোমবার দুজন রিপাবলিকান এবং দুজন ডেমোক্র‌্যাটদের নিয়ে স্টেট ক্যানভাসিং বোর্ড তৈরি হবে যেটা ভোট গুণবে এবং ১৬ ইলেক্টরদের যে  ভোট বাইডেন পেয়েছেন সেটা ঠিক কিনা স্থির করবে। এটা অসম্ভব না হলেও সুযোগ খুবই কম। কারণ ট্রাম্পকে বহু স্টেটের ফল উল্টোতে হবে। তার উপর ট্রাম্প শিবির যেমন মিশিগান, উইসকনসিন, নেভাডা এবং পেনসিলভ্যানিয়াকেই নিশানা করেছে, তেমনই ডেমোক্র‌্যাটরাও বসে নেই। তারাও কোমর বেঁধেছে। ট্রাম্পের এই কাজকর্ম বিতর্ক তৈরি করলেও এটা অবৈধ নয়। ২০০০ সালেও আল গোরে এবং জর্জ ডব্লু বুশের মধ্যে ফ্লোরিডার ভোট নিয়ে লড়াই হয়। যদিও সেবার মাত্র একটা স্টেটেই এই ঘটনা ঘটেছিল এবং মাত্র কয়েকশো ভোটের তারতম্য ছিল। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট পদক্ষেপ করে পুনর্গণনা থামিয়ে দিয়ে বুশকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিল। ট্রাম্প যদি তাঁর সবরকম কৌশলেই ব্যর্থ হয়েও হোয়াইট হাউস ছাড়তে না চান, তাহলে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি, ১২.‌০১ মিনিটের পর বাইডেন আইনিভাবেই আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন। তাতে ট্রাম্প হার না মানলেও কিছু হবে না। এবং এক্ষেত্রে আমেরিকার সেনা এবং সিক্রেট সার্ভিসের অফিসাররা জবরদখলকারীর সঙ্গে যে ব্যবহার করেন, ট্রাম্পের সঙ্গেও তাই করতে পারেন।     

জনপ্রিয়

Back To Top