আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বয়স প্রায় চার হাজার বছর। প্রাচীন সুমেরিয় মন্দিরের গায়ে থাকত এসব প্রস্তর ফলক। খ্রিস্ট জন্মের প্রায় ২,৪০০ বছর আগে। এ রকমই এক ফলক এবার ইরাককে ফিরিয়ে দিচ্ছে ব্রিটেন। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, যে সেটি লুঠ করে ব্রিটেনে আনা হয়েছিল। 
গত বছর মে মাসে অনলাইনে এই ফলকটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়। যদিও তাতে খুব বেশি তথ্য ছিল না। কেবল বলা ছিল, ‘‌পশ্চিম এশিয়ার আক্কাদিয়ান ট্যাবলেট’‌। দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কর্তাদের নজরে আনেন বিষয়টি। তাঁরাই জানান ফলকের ইতিহাস। এর পর উদ্ধার হয় সেই ফলক। 
উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের গোড়ায় ওই মন্দির লুঠ করা হয়েছিল। পরে ১৯৯০ সালের আশপাশে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় প্রাচীন ওই মন্দিরগুলো লুঠ করা হয়। তবে এই ফলকটি ঠিক কবে চুরি গেছিল, জানায়নি ব্রিটিশ যাদুঘর। তাদের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেআইনিভাবে সেই ফলক ব্রিটেনে আনা হয়। পরে প্রশাসন তা জানতে পারে। 
মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কথায়, সুমেরীয় সভ্যতার ফসল, এ ধরনের ফলক খুবই বিরল। মাত্র ৫০টির মতো এধরনের ফলক রয়েছে। ফেরানোর আগে ব্রিটেনে এই ফলক প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছে ইরাক সরকার। মেট্রোপলিটন পুলিশ জিম উইনগ্রেভ ক্রেতাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শন বুঝেশুনে কিনতে বলেছেন। বিশেষত যদি সেই নিদর্শন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের হয়। কারণ সেগুলো বেশিরভাগই চোরাই জিনিস। 
২০১৯ সালেই ব্রিটেনের মিউজিয়াম জানিয়েছে, ইরাক এবং আফগানিস্তান থেকে লুঠ হওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরানোর কাজ করছে তারা। মাটির ফলকে লেখা ১৫৪টি মেসোপটেমিয় লিপিও ব্রিটেন ফেরাচ্ছে ইরাককে। যদিও এলগিন মার্বেল গ্রিসকে না ফেরানোর জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছে ব্রিটেন। দাবি উঠেছে, সাম্রাজ্য বিস্তারের সময় উপনিবেশগুলো থেকে তারা যা লুঠ করেছে, সেগুলোও ফেরানো হোক। 

জনপ্রিয়

Back To Top