সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন, ৪ জুন- কৃষ্ণাঙ্গ–মার্কিনি জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদ এবার আমেরিকা থেকে ইওরোপেও ছড়াল। বৃহস্পতিবার লন্ডন এবং প্যারিস, দুই শহরেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এবং বলেছেন, বর্ণবৈষম্যে ব্রিটেন, বা ফ্রান্সও খুব একটি পিছিয়ে নেই আমেরিকার চেয়ে!‌ এই প্রেক্ষিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল মার্কিন বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বলা কথাগুলো। ট্রাম্প সরকারের সমালোচনা, বা ধ্বংসাত্মক বিক্ষোভের প্রশংসা, কোনওটাই না করে ওবামা বললেন, এই বিক্ষোভের পরের কাজটা করতে। সমাজে, নীতিতে, আইনে বদল আনতে।
ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধ, হতাশ মার্কিন যুবসমাজকে আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘‌তোমরাই পারো বদলাতে!‌’‌ বলেন, ‘ভালর জন্য বদল দরকার। সেই বদল আনার ক্ষমতা তোমাদের আছে। ইউ হ্যাভ দ্য পাওয়ার টু মেক থিংস বেটার।’ নিজের সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান ‘‌ওবামা ফাউন্ডেশন’‌–এর উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল টাউন হল ভাষণে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘একটা বদল যে জরুরি, সেই বার্তাটা মানুষের কাছে খুব সাফল্যের সঙ্গে পৌঁছে দিয়েছ তোমরা। সারা দেশ এখন ভাবছে, বুঝছে যে, পরিবর্তন দরকার। উত্তরণের এই যে সমবেত ইচ্ছে, সাম্প্রতিক অতীতে এরকমটা কখনও হয়নি। এই মুহূর্তটা যে তৈরি হল, তার জন্য তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তবে এখানেই থামলে চলবে না। এগিয়ে যেতে হবে।’ বারাক ওবামা মনে করিয়ে দেন, ঐতিহাসিকভাবে যুবসমাজই সবসময় সমাজে বদল এনেছে। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, সেজার শাভেস, ম্যালকম এক্স বা নারীবাদী আন্দোলন, এলজিবিটি আন্দোলনের অগ্রপথিকেরা যখন প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন, তঁারা সবাই ছিলেন যৌবনের প্রতিভূ।
অনেকেই আমেরিকার চলতি বিক্ষোভকে ১৯৬৮ সালের দেশজোড়া হাঙ্গামার সঙ্গে তুলনা করছেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের হত্যার পর যা হয়েছিল। ওবামা সেই দৃষ্টিভঙ্গীকে সমর্থন করছেন না। একটাই কারণে। আমেরিকার বিভিন্ন সামাজিক স্তর থেকে বহু ধরনের মানুষ এবারের প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। যে সহমত ষাটের দশকের আমেরিকায় ছিল না। এখনকার মার্কিন নাগরিকরা বিত্ত, শ্রেণী, মত নির্বিশেষে মনে করছেন বদল দরকার। যে কারণে মুষ্টিমেয় কিছু বিক্ষোভকারী সন্ত্রাসের আশ্রয় নিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনি এখনও বিশ্বাস করেন, এই প্রতিবাদ জরুরি ছিল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top