সমীর দে, ঢাকা: ভারতের ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব আইনের কারণে বদলে যাবে বাংলাদেশের বৈচিত্র। বাড়বে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও দেশত্যাগের মাত্রা। বিষয়টি শঙ্কা ও উদ্বেগের। এমনই মনে করেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত শনিবার বলেন, ‘‌এই আইনের ফলে এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বাড়বে। বেশি নিরাপত্তার আশায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগে উৎসাহিত হবেন। যে চক্রটি বাংলাদেশকে সংখ্যালঘু শূন্য করতে চায় তারাও উৎসাহিত হবে। সবচেয়ে বড় কথা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিভাজনের প্রক্রিয়া সর্বনাশা।’‌ বাংলাদেশের পূজা উদযাপন পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি কাজল দেবনাথ মনে করেন, যেসব সংখ্যালঘু মাতৃভূমির মাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন এই আইনের ফলে তাঁদের আগ্রহে ভাটা পড়বে। বদলে যাবে বাংলাদেশের জন–বৈচিত্র। বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিওর মতে, এই বিল সংখ্যালঘুদের পক্ষে সহায়ক তো নয়ই। বরং বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়ে যাবে। বিএনপি–‌র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন ‘‌নতুন এই আইন নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।  সাম্প্রদায়িক এই আইন উপমহাদেশে সঙ্ঘাত সৃষ্টি করবে।’‌  প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শহিদুল হক এদিন বলেন, ‘দুই মন্ত্রী সফর বাতিল করে অভিনন্দনযোগ্য কাজ করেছেন। ভারতের সংসদে অমিত শাহ বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছেন। এর জবাব দেওয়া দরকার। তবে এসব কারণে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হবার আশঙ্কা নেই।’
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top