সমীর দে, ঢাকা: মঙ্গলবার সকাল থেকে শয়ে শয়ে কেজি নুন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দেশের পাড়া–মহল্লার দোকানগুলিতে। দোকানিরা জানেন না, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের চাহিদা হঠাৎ কেন বাড়ল। ক্রেতারাও এর কোনও কারণ বলতে পারছেন না। তাঁদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছেন, নুনের দাম বাড়ছে, বাজারে নুনের সঙ্কট! গ্রাহকদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ৩৫ টাকা কেজি দরের নুন কোথাও ২৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, সরকার মোবাইল কোর্ট নামাতে বাধ্য হয়।
এ পরিস্থিতিকে গুজব অভিহিত করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) বলছে, দেশে নুনের কোনও ঘাটতি নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। বিসিক থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যে কেউ সেখানে ফোন করলে সংশ্লিষ্টদের ওই এলাকায় নুন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
নুন মিল মালিক সমিতি জানিয়েছে, দেশে নুনের কোনও ঘাটতি নেই। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাগুলিতে নুন উৎপাদন হচ্ছে। গত মরশুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। যা বিগত ৫৮ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত মরশুমের উদ্বৃত্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন নুন দিয়ে আরও অন্তত দু’‌মাস চলবে। বাজারে যেটা রটেছে, পুরোটাই গুজব।
এক মাস আগে পেঁয়াজ নিয়েও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখনও বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকার বেশি দামে। সেই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার মুনাফা লুঠে নিয়েছে। একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নুন থেকেও মুনাফা করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নুন বিক্রেতারা।
মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরের মুদি দোকানি আবুল হোসেন বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টায় আমার দোকানের সব নুন শেষ হয়ে গেছে। একের পর এক মানুষ এসে শুধু নুন চাইছেন। অন্যান্য দিনে ১০–১৫ কেজি নুন বিক্রি হলেও মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে ১০০ কেজি নুন বিক্রি হয়ে গেছে।’ এখন তাঁর স্টক খালি। একই কথা জানান জননী এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা কবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এসিআই নুন এক কেজি ৩৫ টাকা করে আমরা বিক্রি করতাম। দিনে বিক্রি হত ৮–১০ কেজি। আজ ১৫০ কেজির বেশি অলরেডি বিক্রি হয়ে গেছে। একেকজন এসে ৪–৫ কেজি করে নুন কিনতে চাইছেন। তবে আমি এক কেজির বেশি বিক্রি করছি না।’ এই বিক্রেতার আশঙ্কা, মানুষ যে হারে নুন কিনছেন, তাতে সত্যি সত্যিই সঙ্কট তৈরি হতে পারে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top