সমীর দে, ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গত ১০ ধরে জীবনদায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছিল। রবিবার সকাল পৌনে আটটায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তিনি ছিলেন দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলনেতা।
কলকাতার খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এরশাদের মৃত্যুতে। 
শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, ‘‌আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল।’‌ এরশাদের পরিবার–‌পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার কোচবিহারে জন্ম এরশাদের। এরশাদ নিজে জন্মদিন পালন করতেন প্রতি বছরের ২০ মার্চ। গত ২০ মার্চ তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেন। বাংলাদেশে ‘স্বৈরাচারী’ তকমাটি কেবল এরশাদের সঙ্গেই এঁটে আছে। গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও নানা বিতর্কের মধ্যে তিনি টিকে ছিলেন সংসদীয় রাজনীতিতে। যা এক বিরল ঘটনা। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বৈচিত্র‌্যপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতা–‌কর্মীরা ছুটে যান সিএমএইচে। ছেলে সাদকে সঙ্গে করে আসেন স্ত্রী রওশন এরশাদ। দুপুরে এরশাদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে। ছিলেন তিন বাহিনীর কর্তারা। জানাজা শুরুর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা সংক্ষেপে এরশাদের জীবনী পাঠ করেন। এতে বলা হয়, ‘সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আজ সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর ৬ মাস ১৩ দিন। ১৯৮৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।’‌ এরশাদের সহোদর ও জাপা–‌র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল–‌ত্রুটি হয়ে থাকে। তাঁর কোনও কোনও কাজ হয়তো অনেকের পছন্দ হয়নি। কারও যদি কোনও ক্ষোভ থাকে আমি হাত জোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এরশাদের পরিবার ও জাপা–‌‌‌র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তৃতীয় জানাজা হবে। তারপর মরদেহ আবারও নিয়ে যাওয়া হবে সিএমএইচের হিমঘরে। মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে এরশাদের নির্বাচনী এলাকা রংপুরে। সেখানে চতুর্থ জানাজা শেষে বিকেলে ঢাকায় এনে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। 
৯০ বছর বয়সি এরশাদ রক্তের ক্যান্সার মায়েলোডিস্প্যাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি হচ্ছিল না। শেষদিকে তাঁর ফুসফুসে দেখা দিয়েছিল সংক্রমণ, জল জমে যায়। প্রচণ্ড কাঁপুনি জ্বর নিয়ে ২৬ জুন সিএমএইচে ভর্তি হন এরশাদ। ১১ দিন আগে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। যকৃৎ, কিডনি–‌সহ অন্য অঙ্গ‌প্রত্যঙ্গও আর কাজ করছিল না। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top