সমীর দে
ক্ষতি হয়ে গেল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আন্তর্জাতিকতা চর্চার। প্রয়াত হলেন বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তঁার ছেলে আনন্দ জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তঁার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ড. আনিসুজ্জামান দীর্ঘ দিন ধরেই ফুসফুসে সংক্রমণ–‌সহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। মহাখালির ইউনিভার্সাল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ২৭ এপ্রিল থেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৯ মে পরিবারের ইচ্ছায় তঁাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।
আনন্দ জামান জানান, সকাল থেকেই আনিসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দুপুরে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। সিএমএইচ–‌এর চিকিৎসকদের সব রকম চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানে জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। তিনি ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ভারত সরকার তঁাকে দিয়েছিল পদ্মভূষণ। ২০১৫ সালে পান স্বাধীনতা পুরস্কার। ১৯৯৩ ও ২০১৭–‌য় দু’‌বার আনন্দ পুরস্কার, ২০০৫–‌এ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের ডিলিট এবং ২০১৮–‌তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের জগত্তারিণী পদক পান।

জনপ্রিয়

Back To Top