আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও মূল ভূখণ্ড থেকে ‘‌বিচ্ছিন্ন’‌ ভাসানচর দ্বীপে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সরকারি সূত্রে খবর, কক্স বাজারের শরণার্থী শিবিরে ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গারা বসবাস করেন। চাপ কমাতেই কিছু শরণার্থীকে ভাসানচর দ্বীপে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা একটি ছোট্ট দ্বীপ ভাসানচর। বছর ২০ আগে সমুদ্রে পলি জমে গড়ে উঠেছিল দ্বীপটি। মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি মৎসজীবীরা মাঝে মাঝে এই অনুর্বর দ্বীপে আশ্রয় নিলেও, দ্বীপটিতে এখনও বসতি গড়ে ওঠেনি। মাঝে মাঝেই, সমুদ্রের জোয়ারের জলে ডুবে পুরো দ্বীপ। যার ফলে জমিও একেবারে অনুর্বর।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, দ্বীপটি ভয়ঙ্কর বন্যাপ্রবণ এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ঘন ঘন আছড়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভাসানচর সত্যিই বাসযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি রাষ্ট্রপুঞ্জকে, আল জাজিরা সূত্রে খবর। 
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘‌অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’‌–এর দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আধিকারিক সাদ হামাদি বলেন, ‘‌ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরানোর প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের এমন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে আগাম অনুমতি না ছাড়া কাউকেই যেতে দেওয়া হয় না।’‌
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সূত্রে খবর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, কোনও রোহিঙ্গা পরিবারকেই জোর করে ভাসানচরে পাঠানো হচ্ছে না। যাঁরা যেতে চেয়েছেন, শুধু তাঁদেরই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘‌হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’‌–এর দাবি, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ১২টি রোহিঙ্গা পরিবার জানিয়েছে, তারা ভাসানচরে যেতে চায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ত্রাণকর্মী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হুমকি দিয়ে, টাকার লোভ দেখিয়ে শরণার্থীদের ভাসানচরে পাঠাচ্ছেন সরকারি আধিকারিকরা। 
শুক্রবার দুপুরে ভাসানচরে পা রাখেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রথম দল। চট্টগ্রামের বোট ক্লাব থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জাহাজে করে তাঁদের ওই দ্বীপে নিয়ে আসা হয়। জাহাজে ওঠার আগে ২০ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে ‘‌প্রথম আলো’ জানাচ্ছে, তাঁরা নিজেদের ইচ্ছাতেই কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে যাচ্ছেন। সরকারি সূত্রের দাবি, ওখানে অন্তত এক লক্ষ রোহিঙ্গার থাকা–খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। 
‌ভাসানচর ঘুরে এসে রোহিঙ্গা নেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘‌দ্বীপটি সত্যিই অপূর্ব!‌ অন্য শরণার্থী শিবিরের থেকে অনেক ভাল। আমি তো যেতে চাই। কিন্তু অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীরাই সেখানে যেতে চাইছেন না। রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন বলেন, ‘‌জেলখানায় যেতে চাই না।’‌ যদিও তাঁর নাম নেই তালিকায়। মানবাধিকার সংগঠন ‘‌ফোর্টিফাই রাইটস’–এর তরফে বলা হয়, ‘‌কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তাঁদের এমন একটা দ্বীপে পাঠানো হচ্ছে, যা একেবারে বিচ্ছিন্ন। সেখানে তাঁদের কোনও সুরক্ষা নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকা সংগঠনের সাহায্যও পাবেন না তাঁরা। চলাফেরারই স্বাধীনতা নেই সেখানে। ভাসমান ডিটেনশন ক্যাম্প যাকে বলে।’‌ ‌  


জনপ্রিয়

Back To Top