সমীর দে, ঢাকা: নানা আয়োজনে সারাদেশে পালন করা হল শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী। ঢাক-ঢোল আর উলুধ্বনিতে মুখরিত মন্দির ও পূজামণ্ডপ। রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সব মন্ডপে এ পূজার আয়োজন করা না হলেও দেশের রামকৃষ্ণ মিশনের কিছু কিছু শাখায় তা মহাষ্টমীর দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও বরিশাল অন্যতম। গ্রাম অঞ্চলেও কোনো কোনো মন্ডপে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী এই তিনদিনই দেবী পূজার অন্তে কোনো কুমারী বালিকাকে নতুন বস্ত্র পরিধান করিয়ে দেবীজ্ঞানে পূজা করার রীতি। মঙ্গলবার মহা সপ্তমী পূজা শেষ হওয়ার পর থেকেই চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ কুমারী পূজার আয়োজন। এ পূজার মূল ভক্ত হলো সনাতন ধর্মের কিশোরীরা। প্রতি বছর দুর্গাপূজার মহাষ্টমী পূজা শেষে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে মতান্তরে নবমী পূজার দিনেও এ পূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। কালের অতলে দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা হারিয়ে গেলেও স্বামী বিবেকানন্দ মাতৃজাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯০১ সালে বেলুর মঠে শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদাদেবীর অনুমতিক্রমে কুমারী পূজা পুনঃপ্রচলন করেন। ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান মহারাজ স্বামী  ধ্রুবেশানন্দ কুমারী পূজা নিয়ে বলেন, বৃহদ্ধর্মপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী দেবতাদের স্তরে প্রসন্ন হয়ে দেবী চণ্ডিকা কুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে দেখা দিয়েছিলেন। দেবীপুরাণে বিস্তারিত এ বিষয় উল্লেখ আছে। তবে অনেকে মনে করেন যে, দুর্গা পূজায় কুমারী পূজা সংযুক্ত হয়েছে তান্ত্রিক সাধনামতে।

মহরাজ বলেন, কুমারী পূজা সকাল ১১ টায় রামকৃষ্ণ মিশনে শুরু হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বর্ন্যাঢ্য আয়োজন ছিল। সনাতন শাস্ত্রে যা যা করণীয় সবই পালন করা হয়েছে। সামাজিকভাবে কোনো বিধি নিষেধ ছিল না পূজাতে। সনাতন ধর্মে যা আছে তা নিয়েই আমাদের আয়োজন।

কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব নিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্ত্তী বলেন, কুমারী পূজা হলো হলো নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন।

জনপ্রিয়

Back To Top