সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন, ৪ জুন- আমেরিকায় জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, গ্রিস, দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। জার্মানি, ব্রিটেন ও কানাডা সরকারও আমেরিকায় বর্ণবাদের নিন্দা করার পাশাপাশি যেভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর পুলিশি আক্রমণ নেমে আসছে, তার কড়া সমালোচনা করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জও মার্কিন প্রশাসন ও পুলিশের অকারণ, মাত্রাছাড়া শক্তিপ্রয়োগের নিন্দা করেছে। শুনছেন না কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ ঠেকাতে রাত আটটা থেকে কার্ফু জারি হয়। তারপর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে লাঠি, রাবার বুলেট, কঁাদানে গ্যাস নিয়ে চড়াও হয় পুলিশ। অসংখ্য লোক গ্রেপ্তার হন। অথচ মিছিলের স্লোগান ছিল— মাথার ওপর হাত তুলেই হঁাটছি, গুলি চালিও না!‌ বুধবার রাতে বিক্ষোভ হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, ওকল্যান্ড, শিকাগো, মায়ামি, ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো শহরেও।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাশেলে বুধবার বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ–মার্কিনিদের নিগ্রহ বন্ধ করার যে দাবি, যে জনমত জোরদার হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের উচিত তাতে কান দেওয়া। শুধু পুলিশি নিগ্রহই নয়, মার্কিন সমাজে কৃষ্ণাঙ্গদের যে সামগ্রিক অবমাননা, তা বন্ধ হওয়া দরকার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, বর্ণবিদ্বেষ এবং বর্ণবাদী সন্ত্রাসের কোনও জায়গা নেই। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল এক মুখপাত্র মারফত বলেছেন, আমেরিকাতে কী ঘটছে, নজর রাখছে জার্মানি।
নিরস্ত্র জর্জ ফ্লয়েডের শরীরের ওপর চেপে বসেছিল যে চারজন পুলিশ অফিসার, তাদের বাকি তিনজনও বরখাস্ত হল। চারজনের বিরুদ্ধেই ফ্লয়েড–‌হত্যার কারণ হয়ে ওঠার অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিভিন্ন ধারায়। এতদিন ফ্লয়েডের গলায় পা দিয়ে থাকা অফিসার ডেরেক শভিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এবার বাকি তিন অফিসারও বরখাস্ত হল, প্রবল গণবিক্ষোভের চাপে। শভিন আগে থার্ড ডিগ্রি মার্ডারের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিল। এবার অভিযোগের ওজন বাড়িয়ে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার করা হল। বুধবার মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল জানালেন, নতুন যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই শভিনের অপরাধের গুরুত্ব বাড়ল ও বাকিদেরও অভিযুক্ত করা হল। এই তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হবে।
বুধবার মিনেসোটার সরকারি করোনার রিপোর্টে পাওয়া গেল নতুন তথ্য, ৪৬ বছর বয়সি জর্জ ফ্লয়েড কোভিড পজিটিভ ছিলেন। যদিও তার সঙ্গে যে ফ্লয়েডের স্বাস্থ্যহানি ও অবশ্যই অকালমৃত্যুর কোনও যোগ নেই, সেটাও আলাদা করে বলে দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে। এছাড়া ফ্লয়েডের মুখের ভেতরে, হাতে, কঁাধে কিছু চোট–‌আঘাতের কথা বলা হয়েছে, যা প্রমাণ করছে যে ফ্লয়েডকে একতরফা নিগ্রহই করা হয়েছিল। এবং পুরোটাই পাড়ার দোকানে একটি অচল, জাল কুড়ি ডলারের নোট দেওয়ার অপরাধে। মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেলও করোনারের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বুধবার বলেছেন যে, প্রায় ৯ মিনিট হাঁটু দিয়ে ফ্লয়েডের গলায় চেপে বসেছিল ডেরেক শভিন। যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই শভিনের স্ত্রী আলাদা হয়ে গেছেন এবং শভিনকে পুলিশ থেকে বরখাস্ত করার পরই বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন।‌

ওয়াশিংটনে প্রতিবাদের ঢেউ। ছবি: এপি

জনপ্রিয়

Back To Top