আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সারা দুনিয়া জুড়ে রোজ হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন করোনায়। আক্রান্ত হচ্ছেন লাখো। সব দেশই টিকা তৈরির গবেষণা চালাচ্ছে। কিন্তু আগামী বছরের আগে সে টিকা হাতে পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। 
এর মধ্যেই করোনা নিয়ে কিছুটা হলেও আশার কথা শোনালেন মার্কিন গবেষক মোনিকা গান্ধী। পরিসংখ্যান তুলে দেখালেন, কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ শতাংশেরই কোনও লক্ষণ নেই। তাই মহামারীর থাবা এবার ভাঙতে পারে। সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্রামক ব্যধি নিয়ে গবেষণা করেন মোনিকা। 
মোনিকার কথায়, করোনায় সারা দুনিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ। অথচ অনেকে এই করোনায় আক্রান্ত হয়ে টেরও পাননি। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে ভাইরাসটির রহস্য। তিনি জানালেন, বোস্টনে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল রয়েছে। সেখানে ১৪৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৮ শতাংশের কোনও লক্ষণই নেই। 
স্প্রিংডেলে একটি পোলট্রি খামারে ৪৮১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ৯৫ শতাংশের কোনও লক্ষণ নেই। আরকানসাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহায়ো, ভার্জিনিয়ার জেলে ৩,২৭৭ জন কয়েদি করোনা আক্রান্ত। ৯৬ শতাংশেরই কোনো লক্ষণ নেই। 
কয়েক জন করোনা আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ। কেউ মারাও গেছেন। তাঁদের সংস্পর্শে এসেও এই অ্যাসিম্পটোম্যাটিকরা দিব্যি রয়েছেন। মোনিকার প্রশ্ন, কীভাবে?‌ এই রোগীদের শরীরে কম সংখ্যাক ভাইরাস বাসা বেঁধেছে?‌‌ নয়তো জিনগত কারণ?‌ নাকি আগে থেকেই এদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল?‌       
একই ভাইরাস সকলের সরীরে সমান প্রভাব ফেলছে না কেন?‌ তাহলে কি হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে?‌ অর্থাৎ দুনিয়াতে একটা বড় অংশের এই সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে?‌ মোনিকার মতে, একথা বলা যেতে পারে, কারণ এখন বেশিরভাগ কোভিড রোগীর মধ্যে লক্ষণ থাকছে না। আর এ রকম চললে করোনা সংক্রমণ কিন্তু ততটাও ভয়ের থাকবে না। মোনিকা বললেন, ‘‌অ্যাসিম্পটোমেটিক সংক্রমণের হার বাড়লে তা সকলের জন্যই ভালো। ব্যক্তির জন্যও। সমাজের জন্যও।’ তাঁর মতে, এটা প্রমাণইত হলে টিকা আবিষ্কারেরও সুবিধা হবে। 
করোনা নিয়ে আরও কিছু প্রসঙ্গ তুলেছেন মোনিকা। তিনি মনে করালেন, দুনিয়ার সব দেশে এই সংক্রমণের হার এক নয়। সুইডেনে তেমন লকডাউন হয়নি। কেউ মাস্ক পরেন না। তবু সেখানে সেভাবে করোনা সংক্রমণ নেই। তাছাড়া সব বয়সিদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের হার এক নয়। শিশুরা সেভাবে সংক্রামিতই হচ্ছে না। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছেন, এখন ৪০ শতাংশ করোনা আক্রান্তের কোনও লক্ষণ নেই।
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম এই ভাইরাস চিহ্নিত হয়। প্রযুক্তিগত নাম এসএআরএস কোভ–২। গবেষকরা বলেন ‘‌নোভেল’‌ করোনা ভাইরাস। কারণ এই ভাইরাস প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কোনও মানুষের শরীরেই তখন দেখতে পাননি গবেষকরা। তাই তাঁরা বলেন, এটি একেবারেই নতুন। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই পর্যবেক্ষণ ঠিক নয়। অনেকেই কিন্তু এই রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। এবং দিন দিন সেই ক্ষমতা বাড়ছে মানুষের। এর জন্য দায়ী শরীরে থাকা টি–সেল। এই টি–সেলই শরীরে প্রবেশ করা নতুন কোনও ভাইরাসকে চিহ্নিত করে দেয়। এই টি–সেল ছোটবেলায় দেওয়া প্রতিষেধক থেকে জন্মাতে পারে। আবার এই ধরনের কোনও ভাইরাসের মোকাবিলা আগে করার জন্যও টি–সেল তৈরি হতে পারে শরীরে। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেও তাহলে বলতেই হয়, করোনা ভাইরাস একেবারে নতুন অতিথি নয় এই দুনিয়ায়।   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top