আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবোঝাই বাসের সংঘর্ষে মৃত্যু হল ২০জনের। তাঁদের মধ্যে ১৯জন শিখ তীর্থযাত্রী এবং একজন বাসচালক। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ পাকিস্তানের শেখুপুরায়। ওই শিখ তীর্থযাত্রীরা নানকানা সাহিব থেকে পেশোয়ারে ফিরছিলেন। পাকিস্তান রেলের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ফারুকাবাদ–বাহালিকের মাঝে একটি রক্ষীবিহীন লেভেল ক্রসিং–এ ট্র‌্যাকের উপর উঠে পড়ে যাত্রীবোঝাই বাসটি। সেসময় ওই লাইনে ছুটে আসছিল করাচি থেকে লাগোরগামী শাহ হুসেন এক্সপ্রেস। লাইনের উপর থেকে বাস সরাতে পারেননি চালক। ছুটন্ত ট্রেন সজোরে ধাক্কা দেয় বাসে।
পাকিস্তান পাঞ্জাবের মুখমন্ত্রীর ডিজিটাল মিডিয়ার মুখপাত্র আজহার মাশওয়ানি টুইটারে জানিয়েছেন, বাসে মোট ৩০জন ছিলেন। মৃত ১৯জনের মধ্যে ১৩জন পুরুষ এবং সাতজন মহিলা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পাকিস্তান রেলকর্মীরা। যায় জেলা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দলও। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধারকাজ। ওই লাইনে ট্রেন চলাচল সেসময় বন্ধ রাখা হয়। জখম ১০জনকে শেখুপুরা জেলাসদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য মেয়ো হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় পুলিশের অনুমান, রক্ষীবিহীন হলেও লেভেল ক্রসিং–এর গেট বন্ধই ছিল। কিন্তু বাসচালক সম্ভবত শর্ট কাট নিতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তান শিখ গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির সর্দার অমর সিং বলেন, হতাহতদের মধ্যে তিন থেকে চারটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। বাকিরা পেশোয়ারের উত্তরপশ্চিম অঞ্চলের বাসিন্দা। ওই বাসটি ছাড়া আরও দুটি বাসও শিখ তীর্থযাত্রীদের নিয়ে নানকানা সাহিব থেকে পেশোয়ার ফিরছিল। কিন্তু সেগুলি ঘুরপথে যায়। শেখুপুরার দুর্ঘটনার খবরে মৃতদের পরিবারের প্রতি শোকজ্ঞাপন করে টুইটারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন জখমদের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নজর রাখতে।
ঘটনায় পাক রেলের সিইও শীর্ষ অফিসারদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। শনিবার রিপোর্ট দেবে কমিটি। ঘটনায় কেউ জড়িত থাকতে শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পাক রেলের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে।               ‌             ‌

জনপ্রিয়

Back To Top