আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রোজ জানলায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুমিছিল দেখছেন এক যুগল। একেকটা করে ট্রাক আসছে আর মৃতদেহ নিয়ে চলে যাচ্ছে। আবার এসে আরেকটি মৃতদেহ নিয়ে যাবে। তাঁরা মৃতদেহ গুনতে গুনতে সংখ্যা হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু মৃত্যু বন্ধ হচ্ছে না।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ২৮ বছরের অ্যালিক্স মন্টিলিওন ও তঁার বাগদত্ত ৩৩ বছরের মার্ক কোজলৌ। উইকফ হাইটস মেডিক্যাল সেন্টারের সামনের উঁচু অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন তাঁরা। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে মন্টিলিওন রয়টার্সে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‌পাখির চোখ দিয়ে দেখতে পাই আমরা। বাইরে থেকে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, ভিতরে যে কী অবস্থা ভাবতেও পারছি না। আমরা গোনা বন্ধ করে দিয়েছি। ভীষণ বাস্তব এই পরিস্থিতিটা। ভীষণ সত্যি।’

 

নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংবাদিকের মৃত্যু

 

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের সময়ে যে পরিমাণ প্রাণনাশ হয়েছিল, তার থেকেও অনেক বেশিসংখ্যক প্রাণ নিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। মন্টিলিওন আর কৌজলৌ যেন প্রথম সারিতে বসে এই মহামারীর প্রভাব দেখছেন। গত সপ্তাহে কোজলৌ তাঁদের কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তিনি মন্টিলিওনকে ফোন করে জানান, তিনি দু’‌জন চিকিৎসকের কথাবার্তা শুনতে পেয়েছেন। তাঁরা বলছিলেন, ট্রাক আসছে। আর তারপরেই মন্টিলিওন জানলা দিয়এ উঁকি মেরে দেখতে পান বাইরের চিত্রটা। পরদিন সকালে উঠে তাঁরা দেখতে পান, হাসপাতালের শ্রমিকরা একটা প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে দু’‌টো ট্রাকের ঢোকার ব্যবস্থা করছেন। প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য মন্টিলিওন উইকফ হাইটস মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান, রামন রড্রিগেজের প্রশংসাও করলেন। তিনি আরও জানালেন, তাঁদের আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বলছেন। তাঁরা মনে করছেন, ওই জায়গাটা বসবাস করার জন্য আদৌ নিরাপদ নয়।  

জনপ্রিয়

Back To Top