আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাস্তায় নামলেন‌ ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুড্যু। সবাইকে চমকে দিয়ে বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করলেন। হাঁটু মুড়ে রাস্তায় বসে তিনি হাত মেলালেন হাজার প্রতিবাদীর সঙ্গে। তাঁর উদ্দেশ্যে প্রতিবাদীরা একজোটে উচ্চারণ করলেন, ‘‌ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ান’।‌ 
ফের সবার মন জয় করলেন এক দেশনেতা। এর আগেও বহু ক্ষেত্রে জাস্টিন ট্রুড্যু মানু্ষের পাশে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্বের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন। এবারে একেবারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘নো জাস্টিস=‌নো পিস (‌ন্যায়বিচার না হলে শান্তিও ফিরবে না)‌’‌‌ আন্দোলনে পথে নেমে যোগদান করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই ভঙ্গিমা ফের ক্যানাডার মানুষের মনে শান্তি এনে দিল।  
‘‌ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’‌– বর্ণবিদ্বেষী এই আন্দোলনের শুরু হয় আমেরিকার মিনেসোটার এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পরেই। গোটা আমেরিকা উত্তাল। আন্দোলনের আঁচ পৌঁছে গিয়েছে ক্যানাডাতেও। শুক্রবার ক্যানাডার সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আচমকাই দেখা যায়, কয়েকজন দেহরক্ষীর সঙ্গে প্রতিবাদে যোগদান করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুড্যু। সকলের সঙ্গে তিনবার হাঁটু মুড়ে রাস্তায় বসেছেন। এবং প্রতিবাদীরা আমেরিকার দূতাবাসের দিকে মিছিল শুরু করার পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন। অনেক সাধারণ মানুষ তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন। 
সোমবার আমেরিকার হোয়াইট হাউজের সামনে প্রতিবাদীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। প্রতিবাদী তো শান্তিপূর্ণই চলছিল। তাও কাঁদানে গ্যাস কেন?‌ কারণ, সেই সময়ে বাইবেল হাতে নিয়ে একটি ছবি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর কাজের অসুবিধা হচ্ছিল সম্ভবত। 
প্রতিবাদীদের ওপর পুলিশের সেদিনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ও ট্রাম্পের সেনা নামানোর হুমকির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল জাস্টিন ট্রুড্যুকে। কিন্তু ট্রাম্পের নাম উলঞলেখ পারেননি তিনি। উত্তর দেওয়আর আগে ২০ সেকেন্ডের লম্বা একটি বিরতি নিয়ে তারপর বলেছিলেন, ‘‌ক্যানাডার মানুষ অত্যন্ত ভয় নিয়ে আমেরিকার দিকে তাকাচ্ছেন। আমি কথা দিচ্ছি ক্যানাডায় কোনওপ্রকার‌ বর্ণবিদ্বেষের ঘটনা ঘটবে না। ঘটলে আমি তার বিরোধিতা করব।’     

জনপ্রিয়

Back To Top