আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌

দেওয়াল জুড়ে রঙিন কাগজ চিপকানো। লেখা রয়েছে স্লোগান। বিদ্রোহের স্লোগান। তবে হেঁয়ালি ভাষায়। মূল স্লোগানের প্রথম অক্ষর ব্যবহার করে লেখা হয়েছে ‘‌GFHG, SDGM’‌। চীনা ক্যান্টনিস ভাষার এই স্লোগানের অর্থ ‘‌হংকং–কে মুক্তি দাও, বিদ্রোহ আমাদের সময়ের।’‌ চীনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুললেই সন্ত্রাসবাদীর তকমা লাগতে পারে। আন্দোলন চালিয়ে যেতে অন্য উপায় খুঁজে বের করেছে হংকংবাসী। হেঁয়ালি ভাষা ব্যবহার করার জন্য বিদ্রোহীদের ওপর মামলা–মোকদ্দমা চালাতে পারবে না চীন রাষ্ট্র। কণ্ঠরোধকারী নতুন আইনে মুছে দেওয়া হয়েছে সমস্ত দেওয়াল লিখন। তাতে কী!‌ চীনের জাতীয় সঙ্গীত থেকে একটি লাইন তুলে নিয়েই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন হংকং–এর সাধারণ মানুষ। গ্রাফিটি করে লেখা হয়েছে, ‘‌দাস হতে না চাইলে উঠে দাঁড়াও’। চীনের জাতীয় সঙ্গীত মুছে ফেলবে, সেই ক্ষমতা নেই পুলিশের!‌ জানে হংকংবাসী। বিভিন্ন জায়গায় দেওয়ালে দেওয়ালে সাদা কাগজও চিপকে দেও‌য়া হয়েছে। যা চীনা প্রতিবাদেরই এক ধরন। অর্থ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। ‘‌সাদা সন্ত্রাস’। এক ক্যাফের মালিকে দোকানের দেওয়ালে খালি মেমো সাঁটিয়ে দিয়েছে। জানাচ্ছেন, ‘‌যা জরুরি, তা চোখে ধরা পড়ে না।’‌ ‌এমনকী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও জেডং–এর একটি খুব পরিচিত স্লোগানও ব্যবহার করছে হংকংবাসী। ‘‌ছাত্র আন্দোলন যারা দমন করতে চায়, তাদের পরিণতি খারাপ হয়।’‌ 
সদ্য, হংকং নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাশ করেছে চিন। এই আইন মোতাবেক, গণতন্ত্রের দাবি করা বিচ্ছিন্নতাবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের সমান। এপর্যন্ত প্রায় ২০০ জন প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ২০ জনকে প্রথমবারের জন্য নতুন নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে শহরজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।  হংকং–এর ওপর ‘‌চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে’‌ জাতীয় নিরাপত্তা আইন। প্রতিবাদের কোমর ভাঙতে উদ্যত চীনা প্রশাসন। প্রতিবাদ বিরোধী এই আইনকে কাজে লাগিয়েই এবার ধরপাকড় ও বিদ্রোহীদের গ্রেপ্তার করা শুরু করে চীনা পুলিশ। ৫০ বছরের জন্য হংকং–এর স্বাধীনতা রক্ষার দায় এড়িয়ে সম্প্রতি হংকংবাসীর জন্য নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন নিয়ে আসে চিন। যেখানে বলা হয় বিচ্ছিনতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধ করলে সর্বনিম্ন ৩ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন জেল হতে পারে। নতুন আইনে এ–ও বলা হয় প্রতিবাদীদের দ্বারা যদি জনপরিবহণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে তা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
চীনা অর্থনীতির অন্যতম ভরকেন্দ্র হংকং–এ চীন নতুন আইন লাগু করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি আগেই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরও আইনটি চীনের জাতীয় আইনসভায়  অনুমোদন পায়। ব্রিটেনও চীনের দমনমূলক নীতির কড়া সমালোচনা করেছে। যদিও এ সবে পাত্তা দিতে নারাজ চিনের বক্তব্য, তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা।

জনপ্রিয়

Back To Top