আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীতকাল যেন ‘অচ্ছে দিন’। কিন্তু যাঁদের হৃদরোগের সমস্যা আছে তাঁদের জন্য সেই অচ্ছে দিনই বিপজ্জনক, বলছে ডাক্তারি গবেষণা। এমনকী হতে পারে হার্ট অ্যাটাকও! দিল্লি সহ এনসিআর এলাকায় এই শীতেই ৫০ শতাংশ বেশি হৃদরোগের ঘটনা লক্ষ করা হয়েছে। 
কিন্তু কেন শীতকালেই এই সমস্যা, সম্পর্কটা কোথায়?
প্রথমত, তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমলে রক্তবাহ সঙ্কুচিত হয় ফলে হৃদপিণ্ডে চাপ পড়ে। এর ফলে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন চায় হৃদপিণ্ড। অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে তাকে জোরে পাম্প করতে হয়। এতেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সম্ভাবনা বাড়ে। এক গবেষণা বলছে, প্রতি ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা হ্রাসে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সম্ভাবনা বাড়ে দুই শতাংশ। যদি বছরের সবথেকে উষ্ণ মাস এবং শীতলতম মাসের তুলনা করা হয়, তবে শীতলতম মাসে উষ্ণতম মাসের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকের হার বাড়ে ৩১ শতাংশ। 
এছাড়াও:
১) শীতকালে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
২) ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। 
৩) বেশি খাটনি হয় হৃদপিণ্ডের
৪) রক্ত জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
তাহলে কী করা যায়?
শীতের মরসুমে হৃদপিণ্ডের যত্ন নিতে চিকিৎসকরা বেশ কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন। সেগুলি হল:
১) ঠান্ডা লাগাবেন না। ভাল গরম কাপড় পরে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। প্রয়োজন পড়লে টুপি, দস্তানা ব্যবহার করুন। পরুন ফুল মোজা। বুকে ব্যথা, বমি ভাব এমনকী ঝিমুনি ভাব এলেও সতর্ক হয়ে যান। 
২) প্রতিদিন রক্তচাপ মাপুন। যাদের হাই ব্লাড প্রেসার তারা তো অবশ্যই এই অভ্যাস করুন। দরকার মতো ওষুধ খান। 
৩) অ্যালকোহল হয়তো রক্তবাহকে প্রসারিত করে শরীর গরম করে দেয়, তবু শীতের দিনে সীমিত পরিমাণে মদ্যপান করুন। ধূমপান একেবারেই বন্ধ রাখুন। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়ায় ধূমপান কারণ ধূমপানের ফলে হৃদপিণ্ডে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলত বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ। 
৪) স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলুন। টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম খান। গরম খাবার খান এবং গরম স্যুপ খান। বেশি নুন এবং চিনি দেওয়া খাবার থেকে দূরে থাকুন। তৈলাক্ত,জাঙ্কফুড তো মোটেই নয়।          
 

জনপ্রিয়

Back To Top