কোবিড–১৯ বা করোনা ভাইরাস কী?‌ এটি কতটা মারণশীল?‌
কোবিড–১৯ একটি সংক্রামক ভাইরাস। যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির দেহে সংক্রামিত হয়। সংক্রমণ হয় দেহের উপরিভাগ অর্থাৎ নাক, গলা, ফুসফুসে। ভাইরাসটি অতি সংক্রামক হলেও মৃত্যুর হার তুলনায় কম—২ থেকে ৩ শতাংশ। যা ২০০৩ সালের সার্স (‌মৃত্যুর হার ১০ শতাংশ)‌ এবং ২০১২ সালের মার্স (‌মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ) ভাইরাসের তুলনায় অনেক কম। ষাটোর্ধ্বদের ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর ‌আশঙ্কা বেশি। আগে থেকে কোনও অসুস্থতা থাকলেও মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। 

করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে কি মৃত্যু অবধারিত?‌ 
৮০ শতাংশ মানুষের মধ্যে সাধারণত মৃদু উপসর্গ দেখা যায় এবং তাঁরা ২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে ওঠেন। সময়মতো চিকিৎসা এবং যত্নে প্রায় সব উপসর্গেরই উপশম হয়। 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে কারা অসুস্থ হন? কতটাই বা অসুস্থ হন?‌
পরপর দু’বার সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। তবে শিশু, তরুণ–তরুণী বা যুবক–যুবতীদের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত অসুস্থতা কম। 

করোনা ভাইরাস থেকে শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?‌
অনূর্ধ্ব ১৮–দের ক্ষেত্রে মাত্র ২ শতাংশের দেহে সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। তাদের মধ্যে আবার মাত্র ৩ শতাংশ গুরুতর অসুস্থ। 

সাধারণত কীভাবে মনুষ্যদেহে করোনা ভাইরাস সংক্রামিত হয়?‌
চোখ, নাক এবং মুখ থেকে। কাশি এবং হাঁচির সঙ্গে জলবিন্দু দ্বারা বাহিত হয়ে। সংক্রমণ হয় সংক্রামিত ব্যক্তি ও বস্তুর সংস্পর্শেও। 

খাবার, ডিম বা মুর্গির মাংস থেকে সংক্রমণ হতে পারে?‌ রসুন খেলে সংক্রমণ ঠেকানো যায়?‌
এখনও পর্যন্ত তেমন প্রমাণ মেলেনি। বস্তুত, সার্স এবং মার্সের ক্ষেত্রেও তেমন উদাহরণ মেলেনি। ডিম বা মুরগির মাংস থেকে সংক্রমণের প্রমাণও মেলেনি। পোলট্রিজাত খাদ্যদ্রব্য থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয় বলে জানা যায়নি। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুসিদ্ধ মাংস খাওয়াই ভাল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, রসুন খেলে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি।

হাঁচি বা কাশি হওয়া মানেই কি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি করোনা–আক্রান্ত?‌
হাঁচি–কাশির সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট থাকলে সেই সম্ভাবনা আছে। এছাড়া যদি কেউ চীন, ইরান, ইতালি এবং কোরিয়ায় গিয়ে থাকেন,করোনা সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে থাকেন বা করোনা–সংক্রামিতদের চিকিৎসার জায়গায় গিয়ে থাকেন। 

হাঁচি, কাশি, জ্বর হলেই কি করোনা–সংক্রমণের জন্য রক্তপরীক্ষা করানো উচিত?‌
‘সন্দেহভাজন গোত্র’–এ পড়লে এবং চিকিৎসক পরামর্শ দিলে তবেই রক্ত পরীক্ষা করান। 

কোন ধরনের ল্যাবরেটরিতে করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা করা হয়?‌
যে সমস্ত ল্যাবরেটরিতে ‘বায়োসেফটি লেভেল ৪’ (‌বিএসএল ৪)‌ আছে সেখানে এই পরীক্ষা করানো যায়। অন্য কোনও ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা না করানোই ভাল। 

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ কি সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারে?‌ 
নিশ্চয়ই। বস্তুত, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষ কোনও বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। উপসর্গ অনুযায়ী সংক্রমণ পুরোপুরি সেরে যায়। তবে এর কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। 


গরম পড়লে করোনা সংক্রমণ বন্ধ হয় বা কমে?‌ সাবধান হতে কী ধরনের মাস্ক পরতে হবে?‌ বেশি তাপমাত্র এবং উষ্ণ আবহাওয়া করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া আটকাতে পারে। 
ত্রিস্তরীয় সার্জিক্যাল মাস্ক পরতে হবে। এন–৯৫ বা এন–৯৯ মাস্ক বাধ্যতামূলক নয়। 

কোনও একটি বস্তুপৃষ্ঠে করোনা ভাইরাস সাধারণত কতক্ষণ কর্মক্ষম তা ক্ষতিকারক থাকে?‌
কাগজ, কাঁচা কাঠ, কার্ডবোর্ড, স্পঞ্জ এবং কাপড়ের উপর ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। কাচ, প্লাস্টিক, ধাতু এবং বার্নিস করা কাঠের উপর তার চেয়ে কিছুক্ষণ বেশি। 

জনপ্রিয়

Back To Top