‌অমিতকুমার ঘোষ, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের প্রাচীন ঐতিহাসিক ভবনকে হেরিটেজ ভবন হিসেবে স্বীকৃতি দিল রাজ্য হেরিটেজ কমিশন। এ বিষয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সংবাদমাধ্যমে। এই সংবাদে কলেজের বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক‌, কর্মচারীরা তো বটেই সামগ্রিকভাবে কৃষ্ণনগরের অধিবাসীরা খুশি। 
কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ স্থাপিত হয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেরও ১১ বছর আগে, ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে। এই কলেজের মূল ভবনটিও সেই সময়েই নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ১৭৫ বছরের প্রাচীন এই ঐতিহাসিক ভবনকে যাতে হেরিটেজ ভবন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় সে জন্যে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়েছিল। সংস্থার সম্পাদক খগেন্দ্রকুমার দত্ত এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজকে চিঠি দেন। সেই চিঠি যায় রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কাছে। রাজ্য হেরিটেজ কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের ঐতিহাসিক ভবনকে হেরিটেজ ভবন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রায় ১৭৫ বছর আগে স্থাপিত এই কলেজে কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ, ব্যারিস্টার লালমোহন ঘোষ, সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যাল, স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বন্ধু হেমন্তকুমার সরকার, বিপ্লবী প্রমোদরঞ্জন সেনগুপ্ত, ব্যারিস্টার কাশীকান্ত মৈত্রসহ বহু বিখ্যাত মানুষ পড়েছেন। এই কলেজের প্রাচীন মূল ভবনটির গঠনশৈলী দেখার মতো। বর্তমানে কলেজে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। এমনকী কিছু বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের ক্লাস হয়। কলেজ অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক খগেন্দ্রকুমার দত্ত জানিয়েছেন, ‘‌কলেজের ভবন ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে ঘোষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলেই খুশি। আশা করা যায় এবার ইউজিসি এই কলেজকে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে এবং তাতে কলেজের আরও উন্নতি হবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top