‌সাগরিকা দত্তচৌধুরি: মাঘ শেষ হয়ে ফাল্গুনের পাঁচটি দিন চলে গেল। শীতের আমেজ এখনও খানিকটা রয়েছে। রাতে কিংবা ভোরে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। কিন্তু একটু বেলা বাড়লেই গরম। দুপুরের দিকে কেউ কেউ পাখা, এমনকী এসি চালাচ্ছেন। রাস্তাঘাটে কেউ কেউ আবার ঠান্ডা পানীয় খেয়ে গলা ভিজিয়ে নিচ্ছেন। এই আবহেই শরীরে জাঁকিয়ে বসছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। একে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক, তার ওপর ফ্লু ভাইরাস, অ্যাডিনো ভাইরাসের প্রকোপ। ঘরে ঘরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, ভাইরাল ফিভার। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বসন্তের এই মরশুমে হাম, চিকেন পক্স, মামস, সোয়াইন ফ্লুয়ের মতো অসুখবিসুখের আশঙ্কা প্রবল। যতটা সম্ভব সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের। 
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘‌তাপমাত্রার ওঠানামার ফলে বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এসময় অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাতে ঠান্ডা থাকছে, তাই হালকা গরম পোশাক পরলে ভাল হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডিনো ভাইরাসের প্রকোপে জ্বর, সর্দি, কাশির রোগী বেশি আসছেন। কফের রং পরিবর্তন হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, তবে অযথা না খাওয়াই ভাল। শ্বাসকষ্টের রোগীদের নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। রুমাল থেকে সর্দি, কফ হাতে লেগে পুনরায় সংক্রমণ ছড়ায়। তাই রুমাল ব্যবহার না করাই ভাল‌।’‌ ‌
এনআরএসের চেস্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমন্ত ঝা বলেন, ‘‌এই সময়ে অ্যাজমা, সিওপিডি–র রোগীদের সমস্যা বেশি বাড়ে। চট করে কাশি কমতে চায় না। কখনও কখনও অ্যাজমা অ্যাটাক হয়ে প্রাণহানিরও আশঙ্কা থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে শ্বাসনালির উপরে এবং নীচের দিকে সংক্রমণ দেখা যায়। কারও কারও শ্বাসকষ্ট এতটাই বাড়ছে যে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হচ্ছে। ওষুধ বন্ধ না করে নিয়মিত চেক আপে থাকা এবং ইনহেলার নেওয়া জরুরি। বয়স্করা নিউমোকক্কাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক নিলে অনেকটাই রোগ ঠেকানো যায়।’‌ 
আইডি হাসপাতালের সুপার ডাঃ আশিস মান্না জানিয়েছেন, ‘‌ভরা বসন্তের মরশুমে ভাইরাল ফিভার ছাড়াও চিকেন পক্স, হাম, সোয়াইন ফ্লুয়ের মতো ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ আসছেন। অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরিবারের বাকি সদস্যদের মধ্যে যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না ছড়ায় তার জন্য রোগীদের বাড়িতে আলাদা ঘরে বিশেষ সাবধানতা মানা ভাল। মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে এই সমস্ত রোগে মাছ, মাংস, ডিম খেতে নেই। অথচ এই সময়ে এগুলি বেশি করে খাওয়া দরকার। কারণ শরীরে প্রোটিন কমে গিয়ে দুর্বল হলে ভাইরাস সহজে জাঁকিয়ে বসবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন প্রোটিনের‌।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top