সাগরিকা দত্তচৌধুরি: ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ বা মেনোপজের পর হাড় ক্ষয়ে গিয়ে অস্টিওপোরোসিস রোগে ভুগতে থাকেন অধিকাংশ মহিলা। এ কথা প্রায়ই শোনা যায়। এ ছাড়াও ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে যে বয়সে বন্ধ হওয়ার কথা তার ৩–৪ বছর আগে যদি কারও বন্ধ হয় (‌পেরিমেনোপজ)‌, তাঁদের ক্ষেত্রেও হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তখন এই রোগটিকে বলা হয় পেরিমেনোপজাল অস্টিওপোরোসিস। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই রোগে হাড় ক্ষয়ে যেতে যেতে এতটাই পাতলা হয়ে যায় যে, একটা সময়ে হাড় ভেঙে যায়। মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে হাড়ের ঘনত্বের মাত্রাও কমতে থাকে। এই হরমোন হাড়ের ঘনত্ব বজায়ে সাহায্য করে। সুতরাং মেনোপজ কিংবা পেরিমেনোপজের সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ভালভাবে জীবন কাটানো যায়। ঝুঁকিপূর্ণ কিছু বিষয় যা সামলে নিলে হাড়ের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সিএমআরআই–এর অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টস সার্জেন ডাঃ সি এস ধর বলেন, ‘মেনোপজের সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি হলে অস্টিওপোরোসিস বাড়ে। আবার কারও ৪৫ বছরের আগে মেনোপজ হলে, অর্থাৎ পেরিমেনোপজ হলেও হাড়ের শক্তি কমে যায়। নির্দিষ্ট বয়সে ঋতুচক্রের সময়ে এই হরমোনের মাত্রা কম থাকলে, অনিয়মিত ঋতুচক্র হলেও হাড়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। কাজেই এই সময় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি–সমৃদ্ধ খাবার খেলে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমানো যায়। ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্ত করে এবং ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্য মজবুত করে। এই দুটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরূপ লাহা বলেন, ‘‌ঋতুচক্র বন্ধ বা কারও নির্দিষ্ট সময়ের আগে বন্ধ হলে শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের সরবরাহ প্রয়োজন। কারণ এই সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমতে শুরু করে। এই হরমোন শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বেরোনো আটকায়। ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়ামের জোগান অব্যাহত থাকলে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলে এবং প্রতিদিন সকালে সূর্যের আলো শরীরের সংস্পর্শে এলে হাড়ের গঠন শক্ত হয়। না হলে শিরদাঁড়া, অস্থিসন্ধির যন্ত্রণা হয়। এমনকী ফ্র‌্যাকচারও হয়। বোন ডেনসিটোমেট্রি পরীক্ষায় হাড়ের ক্যালসিয়ামের মাত্রা ধরা পড়ে।’ 
চিকিৎসকদের মতে, ক্যালসিয়ামের মাত্রা কারও ক্ষেত্রে বেশি কমে যায়, আবার কারও কম। অস্টিওপোরোসিস কারও কারও ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার নেয়, যেমন হাড় ভাঙা, শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া, এমনকী স্পন্ডিলোসিস হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। মূলত শরীরচর্চা না করলে, দ্রুত মেনোপজ হলে, সূর্যের আলো গায়ে না লাগলে, বাড়িতে বা অফিসে বেশির ভাগ সময়ে বসে কাজ করলে অস্টিওপোরোসিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আবার কোনও ক্ষেত্রে কিডনি কিংবা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে, ড্রাগস, স্টেরয়েডের নেশা করলে পেরিমেনোপজাল অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
কখনও ৪০ কিংবা ৫০ বছর বয়সি মহিলার হাড়ের কার্যক্ষমতা খুব ভাল দেখা যায়। আবার কারও ৩০ বছরেই অস্টিওপোরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায়। অনেক সময় সহজে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। আবার অনেক মহিলার ক্ষেত্রে হাড় ভাঙা দিয়েই প্রথম লক্ষণের সূত্রপাত হয়। কাজেই সচেতন থাকা জরুরি।

জনপ্রিয়

Back To Top