‌আজকালের প্রতিবেদন: ফের কলকাতায় অঙ্গদানের নজির। দেখা গেল সম্প্রীতির ছবি। নতুন বছর পড়তেই তৃতীয়বার ব্রেনডেথের পর অঙ্গদানের ঘটনা ঘটল। অ্যাপোলো গ্লেনঈগলস হাসপাতালে বুধবার ব্রেনডেথ হয় ৬৭ বছরের কল্যাণকুমার রায়চৌধুরির। তাঁর লিভার ও কিডনি পেয়ে মুমূর্ষু দু‌ই রোগী নবজীবন পেলেন। অঙ্গদানের ক্ষেত্রে কোনও জাতি, বর্ণ ভেদাভেদ হয় না তা এদিন প্রমাণ হয়ে গেল বলে মত চিকিৎসকদের।
বালির এই বাসিন্দা হুগলির সিমলাগড়ের কাছে সাইকেল নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন সোমবার। সেই সময় পথ দুর্ঘটনা হয়। গুরুতর চোট পান। মস্তিষ্কে আঘাত লাগে। অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় সেভাবে কোনও উন্নতি হয়নি। মঙ্গলবার ব্রেন ডেথের কথা পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে, তাঁরা অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। তার পরই বুধবার সকাল থেকে যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। করা হয় পৃথক গ্রিন করিডর। অ্যাপোলো থেকে দুপুর ৩টে ৪৩ মিনিটে চিকিৎসক টিম কিডনি নিয়ে বেরোন। মাত্র ১৪ মিনিটে অর্থাৎ ৩টে ৫৭ মিনিটে পৌঁছন আরএন টেগোরে। অনেক রাত পর্যন্ত চলে অস্ত্রোপচার। দু‌টি কিডনিই তপসিয়ার বাসিন্দা বছর ৫৩–‌র রোগী মালতী প্রামাণিকের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, অঙ্গদাতার বয়স বেশি। তার ওপর গ্রহীতার দুটি কিডনিই বিকল।  তিনি যাতে সুস্থভাবে থাকতে পারেন, তার জন্যই দুটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, দাতার দু‌টি কিডনিই একই রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটল আরএন টেগোরে। গত বছর জানুয়ারি মাসে এক দাতার দু‌টি কিডনি এক রোগীকেই দেওয়া হয়েছিল। 
অঙ্গদাতার লিভার দান করা হয় এসএসকেএমের এক রোগী ৩০ বছরের সাহানা খাতুনকে। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি লিভার সংক্রান্ত রোগে ভুগছিলেন। লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচার কোনও উপায় ছিল না। ছিলেন উপযুক্ত দাতার অপেক্ষায়। এসএসকেএমের হেপাটোলজির বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরির নেতৃত্বে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ শুরু হয়ে, অনেক রাত অবধি চলে অস্ত্রোপচার। প্রসঙ্গত, সোমবার এসএসকেএমে ব্রেনডেথ হয় কাঁচরাপাড়ার যুবক সুজয় কর্মকারের। তাঁর হার্ট, কিডনি, লিভারও দান করা হয়।‌‌‌

ছবি: প্রতীকী

জনপ্রিয়

Back To Top