আজকালের প্রতিবেদন: চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের মধ্যে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমে আলাদা  সিলেবাস অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি স্কুলপাঠ্যেও যদি অঙ্গদানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে আগামী প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অঙ্গদান সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এই প্রস্তাব দেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।  
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যে অঙ্গদান সংক্রান্ত সিনিয়র নোডাল অফিসার ডাঃ তমালকান্তি ঘোষ বলেন, ‘অঙ্গদানের সচেতনতা এবং ব্রেনডেথের ঘোষণা বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি অঙ্গ সংগ্রহের জন্য নন ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গান রিট্রিভাল সেন্টার (‌এনটিওআরসি)‌ করার। সকলের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের লাইসেন্স নেই। কিন্তু ব্রেনডেথ ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ রিট্রিভ যাতে করতে পারে, তার জন্য কলকাতা ও আশপাশের কিছু হাসপাতাল মিলিয়ে ১২–১৩টি জায়গায় এনটিওআরসি লাইসেন্স দিলে অনেক সুবিধা হবে। স্কুল পাঠ্যক্রমে আনার বিষয়টা সরাসরি আমাদের হাতে নেই। এর জন্য আলাদা নীতি তৈরি করা দরকার। উত্তরবঙ্গে একটা ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার করা হবে।’‌ রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশন (‌রোটো)‌–‌এর যুগ্ম অধিকর্তা ডাঃ অর্পিতা রায়চৌধুরি বলেন, ‘‌আমরা চাই এমবিবিএসের সিলেবাসে আলাদা একটা চ্যাপ্টার অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাব দিয়েছি। ডাক্তারির স্নাতক স্তরের পড়ুয়ারা অঙ্গদানের গুরুত্ব, ব্রেনডেথের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, লিগ্যাল ইস্যু, সার্জেনদের কী দক্ষতা, সার্জারি সংক্রান্ত বিষয় প্রভৃতি সিলেবাসে থাকলে ডাক্তারির পড়ুয়াদের প্রথম থেকেই স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।’‌
 এদিন রোটো–‌র অন্য যুগ্ম অধিকর্তা ডাঃ প্লাবন মুখার্জি জানান, ব্রেনডেথের পর রোগীকে ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্টিভ চিকিৎসা দিতে হয়। অনেক সময়ই অতিরিক্ত খরচের জন্য বেসরকারি হাসপাতাল ব্রেনডেথ ঘোষণা করতে চায় না। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল আবেদন করলে রোটো থেকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকার পরিমাণ আরও একটু বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। সিএমআরআই হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অরিন্দম কর, অ্যাপোলো গ্লেনইগলসের ডাঃ চন্দ্রাশিস চক্রবর্তী, ডাঃ রামদীপ রায়ের মতে, স্কুল পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি হলে ভাল হবে। ডাক্তারির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বার্ষিক সোশ্যাল ফেস্ট এসকুলাপিয়া–২০১৯ শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী। বিভিন্ন বিষয়ের মেডিসিন ও সার্জারি চিকিৎসকরা শামিল হয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top