ডাঃ পল্লব বসুমল্লিক: দক্ষ ট্র‌্যাপিজশিল্পী যেভাবে সন্তর্পণে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে উঁচু দড়িতে খেলা দেখান, নোভেল করোনা ভাইরাস বিশ্ববাসীকে ঠিক সে অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। একটু এপাশ–‌ওপাশ হওয়া মানেই অবধারিত.‌.‌.‌। ২৩ মার্চ সোমবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহটা ভাইটাল। কেন?‌ চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। শুধু কলকাতা, বাংলার কথা বলছি না। কোভিড–‌১৯ সংক্রমণ এদেশে ৫ সপ্তাহে পড়বে। তখনই প্রমাণ করা সম্ভব হবে যে আমরা প্যানডেমিক–‌কে স্টেজ–‘‌‌টু’‌তে বেঁধে রাখতে পেরেছি কিনা। প্যানডেমিকের বিভিন্ন পর্যায়। স্টেজ ‘‌থ্রি’‌ ভয়াবহ। সংজ্ঞা অনুযায়ী স্টেজ থ্রি হল ‘‌আউটব্রেক অফ ইনফেকশন ইন কমিউনিটি’‌ অর্থাৎ আক্রান্ত একইসঙ্গে সমাজের একটা বড় অংশকে সংক্রামিত করা ‌শুরু করে। এখন রোগের ভরকেন্দ্র কিন্তু সরেছে ইওরোপে। ইরানে প্রায় এক হাজার রোগী মারা গেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। জনঘনত্ব এবং নিয়মকে তোয়াক্কা না করার বেপরোয়া মনোভাবেই ভারত আগ্নেয়গিরির মুখে। ‘‌বয়ে গেল’‌ বা ‘‌চলনে দো’–‌র মতো গয়ং গচ্ছ মনোভাব‌ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৬৩‌%‌। নাহলে কেউ কোয়ারেন্টিন ছেড়ে পালায়!‌‌ ইউহানে রোগ শুরু হতেই দক্ষিণ কোরিয়া প্রশাসন দিনে ২০,০০০ নির্ণায়ক পরীক্ষা নিয়মিত চালিয়েছে। সিঙ্গাপুর সরকার করোনায় আক্রান্ত এবং আক্রান্ত হতে পারেন এমন প্রত্যেক নাগরিককে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়ে প্রতিমুহূর্তে আপডেট নিচ্ছে। স্টেজ টু সামলানো যায় স্ক্রিনিং/‌সার্ভিলেন্স বা নজরদারি/‌কোয়ারেন্টিনে। পরবর্তী পর্যায়ের মোকাবিলা আদৌ সহজ নয়। ডাক্তারবাবুদের বিভ্রান্তি হচ্ছে রোগ নির্ণয়ে। বসন্তে, মরশুম বদলের এ সময়টায় হাঁচি, কাশি, সর্দি বা জ্বর এমনিতেই হয়। সেটা সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা হতেই পারে। এখন ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের রাজ্য সরকার যথাযথ নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইসরি জারি করেছে। সংশয় হলেই পরীক্ষা। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকলে এক সেকেন্ডও অপেক্ষা নয়। বাংলা আপাতত করোনা–‌যুদ্ধে প্রস্তুত। কিন্তু ভারত জিতলে তবেই পিঠ চাপড়ানো যাবে।

জনপ্রিয়

Back To Top