সাগরিকা দত্তচৌধুরি- পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্যে মোট ১০,৬৬৩টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে। ভিন রাজ্য ফেরত এখনও পর্যন্ত  মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৫৯৪ জনকে বিশেষ এই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে এখনও পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭১০ জন। শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে ভিন রাজ্য থেকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এ রাজ্যে ফিরছেন। করোনা সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেই কারণেই বিশেষ এই ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। বুধবার এই তথ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়।  পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ছাড়াও সরকারি যে ৫৮২টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার রয়েছে, তাতে ১৮ হাজার ৫২৫ জন রয়েছেন। ছাড়া পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত ৫৬ হাজার ১১৮ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২৮৭ জন। মুক্ত হয়েছেন ৯৬ হাজার ৫৪১ জন।  
এদিন নতুন করে ১৭০ জন করোনা সংক্রমণ মুক্ত হলেন। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ জন। সুস্থতার হার ৩৯.‌‌‌৬৪ শতাংশ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪০ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৫০৮ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ হাজার ৫৮৩ জন। নতুন করে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭৩ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ হাজার ৪৯৯টি। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩২ হাজার ২২৫টি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে কলকাতার ৯৯, উত্তর চব্বিশ পরগনা ৪২, হাওড়া ৫৮, হুগলি ৩৮ জন–‌সহ সমস্ত জেলা থেকেই আক্রান্ত রয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের তালিকায়।      
এদিন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আবারও এক করোনাজয়ী প্লাজমা দান করলেন। পেশায় চিকিৎসক বিরাটির বাসিন্দা সায়ন্তন চক্রবর্তী এদিন যান কলকাতা মেডিক্যালে। ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ প্রসূন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয় জন প্লাজমা দান করলেন। প্রসূনবাবু বলেন, ‘‌একজন চিকিৎসক যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তা সত্যিই গর্বের বিষয়।’‌ সায়ন্তনের কথায়, ‘‌আমার জন্য যদি কোনও করোনা আক্রান্ত সুস্থ হন, তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী আছে। চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।’‌  করোনা থেকে সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন ব্যাঙ্ককর্মী সমীরণ ঘোষ। ৫৩ বছরের এই করোনাজয়ী নিউ ব্যারাকপুর নবপল্লী খালপাড়ের বাসিন্দা। তিনি সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন কর্মী। ২১ মে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায়। ওইদিনই তাঁকে আলিপুরে কম্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ মে তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এদিন বাড়ি ফিরলে এলাকাবাসীরা পুষ্পবৃষ্টি ও করতালি দিয়ে বরণ করেন সমীরণবাবুকে। অন্যদিকে, নিউ ব্যারাকপুরে আরও দু’‌জনের শরীরে করোনা ধরা পড়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরুলিয়ায় এক ধাক্কায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা বেড়ে হল মোট ১৮। এদিনই ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌জেলা পরিষদ)‌ আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেছেন, ‘‌জেলায় মোট করোনা পজিটিভ ১৮। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’‌ পূর্ব মেদিনীপুরে মহারাষ্ট্র ফেরত আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শ্রমিক এগরার বাসিন্দা। বুধবার তাঁকে ভর্তি করা হয় পাঁশকুড়া বড় মা হাসপাতালে।‌

হাসপাতালে সুজিত বসু

দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু হাসপাতালে ভর্তি হলেন। তিনি করোনা আক্রান্ত। তিনি এতদিন হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। সতর্কতামূলক কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর স্ত্রীও করোনা আক্রান্ত। তার আগে পরিচারক আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই থেকে তাঁদের সংক্রমণ বলে আশঙ্কা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top