সাগরিকা দত্তচৌধুরি- পাঁচদিনের বেশি জ্বর  থাকলে, মুখ, ঠোঁট, চোখ লাল হয়ে গেলে, হাতে–পায়ে ব্যথা, ফোলাভাব, গায়ে র‌্যাশ বেরনো, গা–হাতে–পায়ে যন্ত্রণা, হাত–পায়ের চামড়া উঠে যাওয়া, গলার পাশে ফুলে যাওয়া প্রভৃতি উপসর্গ শিশুর মধ্যে দেখা দিলে বহু অভিভাবক সংক্রামক ব্যাধি, হাম, ভাইরাল ফিভার, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ভেবে ভুল করেন। আসলে ‘‌কাওয়াসাকি ডিজিজ’ও‌ যে হতে পারে সেটি নিয়ে ভাবা দরকার। শিশুর মধ্যে এধরনের লক্ষণ দেখলে এড়িয়ে না গিয়ে অবশ্যই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নেওয়া দরকার। 
এই অসুখটি হল ‘‌কাওয়াসাকি ডিজিজ’ (‌কেডি)‌‌। যা খুব একটা পরিচিত নয় ঠিকই তবে বিরলও নয়। সচেতনতার অভাবে চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছতে এতটাই দেরি হয়ে যায় যে, তখন আর কিছু করার থাকে না। শনিবার স্বভূমিতে কাওয়াসাকি ডিজিজ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া আয়োজিত দ্বিতীয় সম্মেলনে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবের কথাই আলোচনা করেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। রবিবার পেডিয়াট্রিক রিউম্যাটোলজি সোসাইটির তৃতীয় সম্মেলনে শিশুর শরীরে রক্তনালি বা ধমনীর জটিল অসুখ (‌ভাস্কুলাইটিস)‌ হয়ে যে সমস্যাগুলো এখন বেশি দেখা যাচ্ছে, সেগুলির ডায়াগনসিস ও চিকিৎসার ওপর জোর দেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পেডিয়াট্রিক মেডিসিনের চিকিৎসকরা। শরীরের বিভিন্ন ধমনীতে প্রদাহ হয়ে তাকায়াসু ভাস্কুলাইটিস, হেনো–সোনলেন পারপারা (‌এইচএসপি)‌ ভাস্কুলাইটিসের মতো একাধিক রোগ হয়। ভ্যাকসিন দিয়ে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা গেছে। সেগুলি ছাড়া অন্য যে রোগগুলি এখন প্রকট হচ্ছে মূলত তার চিকিৎসার দিশা খুঁজছেন চিকিৎসকরা।  
দুই সংগঠনের প্রথমটির সর্বভারতীয় এবং দ্বিতীয়টির রাজ্য শাখার সম্পাদক ডাঃ প্রিয়ঙ্কর পাল জানিয়েছেন, ‘‌কাওয়াসাকি ডিজিজ অসুখটি চিহ্নিত হয়েছে ৫২ বছর আগে। এদেশে শেষ কয়েক বছর ধরে আলোচনায় এসেছে। ১৯৬৭ সালে জাপানে ডাঃ তমিসাকু কাওয়াসাকি রোগটি প্রথম চিহ্নিত করেন। দেরিতে চিহ্নিত হলে শিশুদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় সব ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পায় না। কাজেই ক্লিনিক্যাল ডায়াগনসিসটাই প্রধান। হার্টের ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে কিছু পরিবর্তন ধরা পড়লে ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (‌আইভিআইজি)‌ দ্বারা চিকিৎসা করা হয়। এই রোগের পিছনে নির্দিষ্ট কি কারণ এখনও জানা যায়নি।’‌ 
ওয়েস্ট বেঙ্গল পেডিয়াট্রিক রিউম্যাটোলজি সোসাইটির সভাপতি ডাঃ তাপসকুমার সাবুই বলেন, ‘জ্বর নিয়ে বেশিরভাগ কেডি আসে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে জ্বরটা ছেড়ে গেলেও করোনারি আর্টারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’‌
সম্মেলনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডাঃ রাকেশ মণ্ডল বলেন, ‘‌কেডি ছাড়াও পেডিয়াট্রিক ভাস্কুলাইটিস বা ধমনীর প্রদাহের ঠিকমতো ডায়াগনসিস না হওয়ায় কিডনি, ফুসফুস, লিভারের মতো একাধিক অঙ্গের ক্ষতি হয়। শিশুবয়সে না হলেও অনেক সময় বড় বয়সে মারাত্মক আকার নেয়।’‌ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রভাস প্রসূন গিরি বলেন, ‘কেডি দ্রুত নির্ণয়ের পর আইভিআইজি দ্বারা চিকিৎসায় সেরে যায়। ১–৬ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এখন ৭–৮ বছরের শিশুদের মধ্যেও পাচ্ছি। দু–একটা ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও দেখা গেছে।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top