নীলাঞ্জনা সান্যাল: কলেজগুলির মাধ্যমে বিএ, বিএসসি পার্ট–থ্রি এবং বিকমের ফাইনাল সেমেস্টার পরীক্ষা নেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু প্রশ্ন পাঠাবে। পরীক্ষা নেওয়া এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব নির্দিষ্ট কলেজের। পরীক্ষা হবে অফলাইনে। বাড়িতে বসে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের খাতায় নাম, রোল নম্বর ইত্যাদি লিখে পরীক্ষা দেবে। এবং কলেজের কাছে সেই খাতা জমা দেবে। কীভাবে জমা দেবে তা কলেজ ঠিক করবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর কলেজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোল নম্বর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজাল্ট জমা দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, স্নাতকস্তরের ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে এমনটাই ভাবা হয়েছে। আজ, বুধবার স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছেন উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কয়েক দফায় হবে বৈঠক।
এই বৈঠকের পর স্নাতকস্তরের বোর্ড অফ স্টাডিজের বৈঠকও হবে। সেখানেই স্নাতকের পরীক্ষা পদ্ধতি, কোনদিন কী পরীক্ষা হবে ইত্যাদি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ, বিএসসি পার্ট–থ্রি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল এপ্রিলে। প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হওয়ায় পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। জানা গেছে, যে প্রশ্ন তৈরি আছে সেই প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষদের ই–মেল করবে। যেদিন যে বিষয়ের পরীক্ষা সেদিন সেই বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে ই–মেল করা হবে। অধ্যক্ষ সেই প্রশ্ন নির্দিষ্ট বিভাগের শিক্ষক বা বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠাবেন। পড়ুয়াদের সরাসরি ই–মেল করে বা কলেজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও পাঠানো হতে পারে। এরপর ছাত্ররা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর লিখে তা কলেজকে পাঠাবে। কলেজ সেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে নম্বরটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে। কলেজ কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, উত্তরপত্র পড়ুয়ারা কীভাবে কলেজে পাঠাবে, সেটা নির্দিষ্ট কলেজই ঠিক করবে। লকডাউন শুরুর আগে বিকম ফাইনাল সেমেস্টারের মাত্র তিন সপ্তাহ ক্লাস হয়েছিল। যেখানে ১৪ সপ্তাহ হওয়ার কথা। আপাতত ঠিক হয়েছে যতটা পড়ানো হয়েছে তার মধ্যে থেকেই প্রশ্ন করা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ড অফ স্টাডিজের বৈঠকে নেওয়া হবে। এভাবে অনার্সের পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেওয়া গেলেও জেনারেলে যেহেতু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি কুটার সভাপতি পার্থিব বসু বলেন, ‘‌আমরা প্রথম থেকেই পরীক্ষা চেয়েছি। ৮০:‌২০ ফর্মুলায় মূল্যায়ন নয়, আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে ছিলাম। এখন যখন ১ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তাই, আমরা চাই, কীভাবে নেওয়া হবে তা ঠিক করার স্বাধীনতা বিভাগগুলিকে দেওয়া হোক। কারণ পড়ুয়াদের সংখ্যার ভিত্তিতে বড় এবং ছোট বিভাগ রয়েছে। ছোট বিভাগগুলির পরীক্ষা পদ্ধতি আর বড় বিভাগের পরীক্ষা পদ্ধতি এক হতে পারে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top