চিরদীপ ভট্টাচার্য: রাজ্যে কি ফের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সুদিন ফিরছে?‌ রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশনস বোর্ড আয়োজিত মক কাউন্সেলিং সেশনের প্রথম দুটো দিনে ৩৩টি কেন্দ্রে জয়েন্ট পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।
বিগত কয়েকটা বছরে ডব্লুবিজেইই (‌ইঞ্জিনিয়ারিং)‌ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলা সত্ত্বেও রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে শূন্য পড়ে থাকা আসনও তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছিল। প্রশ্ন উঠছিল রাজ্যের বিশেষত বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সার্বিক পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান নিয়েও। এমন–‌কি খালি পড়ে থাকছিল শীর্ষস্থানীয় যাদবপুরের বেশ কয়েকটি আসন। চিন্তার ভঁাজ পড়ছিল রাজ্যের শিক্ষা মহলে। রাজ্য সরকারও চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হচ্ছিল, সত্যিই কি রাজ্যে এত ইঞ্জিনিয়ারিং আসন প্রয়োজন?‌
বিভিন্ন মহল থেকেও এই ধরনের মতামত উঠে আসতে থাকায় পরিস্থিতি সামলাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা শুরু হয় বছর তিনেক আগে। তারই অঙ্গ হিসেবে গত বছর থেকে মক কাউন্সেলিং সেশন করাচ্ছে জয়েন্ট বোর্ড। এই সেশনে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনলাইন কাউন্সেলিং শুরুর আগেই বোর্ড নির্ধারিত কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে হাতেকলমে অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের আঁচ পাচ্ছেন।
কী কী করা যাচ্ছে এই মক কাউন্সেলিং সেশনে?‌ এক কথায় অনলাইন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটাই হাতেকলমে বুঝে নেওয়ার সুযোগ। জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মলয়েন্দু সাহা জানালেন, ‘‌বিগত কয়েক বছরে বোর্ড দেখেছে, ভাল র‌্যাঙ্ক করা সত্ত্বেও বহু পরীক্ষার্থী স্রেফ কম্পিউটার বেসড ডেটা আপডেশন বা অনলাইনে নিজেদের যাবতীয় তথ্য ঠিকমতো পূরণ না করার কারণে পছন্দসই প্রতিষ্ঠান বা স্ট্রিমে অ্যালটমেন্ট পায় না। কারও হয়তো জেনারেল র‌্যাঙ্ক বারো হাজার। সে তার প্রথম পছন্দ দিল যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স। মাত্র চার–পঁাচটা ভাল প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্তি দিল। কিন্তু, বারো হাজার র‌্যাঙ্কে যে যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স মেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, সেই বাস্তবটা তো বুঝতে হবে। আমার যদি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়েই পড়ার ইচ্ছে, তাহলে কত র‌্যাঙ্ক করলে পরবর্তী ভাল কোনও প্রতিষ্ঠানে সুযোগ মিলতে পারে, সে ব্যাপারে একটা সুস্পষ্ট ধারণা থাকতেই হবে। এ জন্য বিগত দু’‌বছরের (‌২০১৬ ও ২০১৭)‌ কাউন্সেলিংয়ে কত র‌্যাঙ্কে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন স্ট্রিমে অ্যালটমেন্ট মিলেছে, সেই ওপেনিং ও ক্লোজিং র‌্যাঙ্ক জয়েন্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.wbjeeb.nic.in‌‌)‌ আপলোড করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো দেখলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পেয়ে যাবেন। ঠিকঠাক ডেটা আপলোড করলে ভাল প্রতিষ্ঠানে পছন্দমতো স্ট্রিম মেলার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়, সেই ব্যাপারটা অভিভাবকরাও বুঝতে পেরেছেন। হয়তো সেই কারণেই এবারের মক কাউন্সেলিং সেশনে ভিড় আমাদের আশাকে ছাপিয়ে গেছে।’‌
কিন্তু, কয়েকটা কেন্দ্রে বেশি ভিড় হওয়ার কারণে অবস্থা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বোর্ড, এমন অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে মলয়েন্দুবাবু জানালেন, ‘‌মক কাউন্সেলিং করানোর আগে অফিসারদের নিয়ে জয়েন্ট বোর্ড ওয়ার্কশপ করেছিল। পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে অফিসারদের তৈরি করা হয়েছিল। তবে, কিছু কেন্দ্রে আশাতীত ভিড় হওয়ায় সামান্য সমস্যা হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে বোর্ডের তরফে আরও কয়েকজন আধিকারিক ও বেশ কিছু কম্পিউটারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’‌ আগামী দিনগুলোয় আর বড় কোনও সমস্যা হবে না, সে ব্যাপারে আশাবাদী বোর্ড চেয়ারম্যান।
আশাবাদী বেশ কয়েকটি নামী ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাও। একজন তো বলেই ফেললেন, ‘‌জয়েন্ট বোর্ড হবু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ু্য়াদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, এমন খবর যেন ফের পাই!’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top