আজকালের প্রতিবেদন: ঠিকমতো হাত না ধোওয়ার ফলে বহু রোগব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধে। হাত ধুয়ে খাবার খেলে ৫০ ভাগ জলবাহিত রোগ হয় না। হাত ধোওয়া নিয়ে আগের তুলনায় সচেতনতা বাড়লেও এখনও বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা থেকে গেছে। মঙ্গলবার তাই ‘‌বিশ্ব হাত ধোওয়া দিবস’‌–এর দিন আবারও সচেতনতার ওপরই জোর দিলেন বিশেষজ্ঞরা। 
কলকাতার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ–এর হেলথ প্রোমোশন অ্যান্ড এডুকেশন বিভাগের ডিরেক্টর–প্রফেসর (‌জনস্বাস্থ্য)‌ ‌ডাঃ মধুমিতা দুবে বলেন, ‘হাত ধোওয়া নিয়ে সচেতনতার অভাব এখনও রয়েছে। ‌আমাদের দেশে আন্ত্রিক সংক্রমণের অন্যতম কারণই হল অপরিষ্কার হাতে খাবার জিনিস ধরা। সে–রাস্তার ধারের লোভনীয় ফুচকা হোক কিংবা ঝালমুড়ি অথবা রেস্তোরাঁর ভেতরে রান্নাঘরে তৈরি করা খাবার হোক না কেন— সমস্যা হল যাঁরা এই খাবারগুলো তৈরি করেন তাঁরা এই অভ্যাস এখনও নিয়মিতভাবে মানতে অপারগ। কারণ, কলের জলের সুবিধার অভাব রয়েছে। হাত ধোওয়ার অভ্যাসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে এবং যথোচিত কলের জলের সুবিধা করে দেওয়ারও প্রয়োজন।’‌ 
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ ঋভু বসু বলেন, ‘হাত ধোওয়ার অভ্যাসে গত ২০ বছরে অনেকগুলো অসুখ একসঙ্গে কমতে সক্ষম হলেও এখনও অনেক জায়গায় হ্যান্ড ওয়াশ যথাযথ হয় না। ভাল করে হাত না ধুলে ডায়েরিয়া, কিছু পেটের অসুখের সঙ্গে বায়ুবাহিত রোগও হয়। নোংরা হাত দিয়ে পেটে এক ধরনের কৃমি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারে খুব একটা কাজ হয় না। অন্তত ৩০ সেকেন্ড ‌দু’‌হাতের তালু, আঙুলের মাঝে, নখ ও নখের মাথায়, কব্জি ভাল করে ধুতে হবে সাবান–জল দিয়ে।’‌ ভাল করে হাত ধোওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে এদিন শোভাবাজারে মেডিক্যাল ব্যাঙ্কের উদ্যোগে একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। সংস্থার সম্পাদক ডি আশিস–সহ ১০০ জন স্কুলপড়ুয়া এতে অংশ নেয়। চিকিৎসকদের মতে, খাওয়ার আগে ও পরে, রান্না করার আগে, খাবার পরিবেশনের আগে, শৌচকর্ম করার পর, শিশুর মল পরিশষ্কারের পর অবশ্যই ভাল করে সাবান–জলে হাত ধুয়ে নিতে হবে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top