কলকাতায় একটি আলোচনাসভায় যোগ দিতে আসার সময় অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.‌ অনিল ডি সহস্রবুদ্ধের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্য্যাণী ব্যানার্জি।

• ‘‌ইন্ডাস্ট্রি ৪.‌০’‌–এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করতে চলেছি সারা বিশ্ব। ফলে খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রয়োগকৌশল। খাপ খাওয়ানোর জন্য দেশে প্রযুক্তিশিক্ষার সিলেবাস কেমনভাবে বদলাচ্ছে?‌
ড.‌ সহস্রবুদ্ধে:‌ ইন্ডাস্ট্রি ৪.‌০–এর কয়েকটা উপাদান ইতিমধ্যেই আমাদের সিলেবাসে রয়েছে। এখানে আসল কথাটা হল, এটাকে ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে গেলে আগে আমাদের সফ্‌টওয়্যার ঠিকমতো শিখতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ৪.‌০ অতিরিক্ত বিশেষ কিছুই নয়, শুধু এখানে কম্পিউটারের প্রয়োগ ঠিকঠাক বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোনও কাজ করতে হবে, বন্ধ রাখতে হবে, নাকি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটা উদাহরণ দিই, কৃষিকাজে মাটি ও ফসলে সময়মতো জল দেওয়ার দরকার হয়। বন্যা হলে যেমন ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে ঠিক সময়ে জল না পেলেও ফসল নষ্ট। ঠিকঠাক ফসল ফলাতে গেলে সময় মেনে পরিমাণমতো জল সরবরাহ করতে হয়। আপনার যদি আইওটি ডিভাইস থাকে, সেটা মাটিতে হিউমিডিটি কোশেন্ট (‌আর্দ্রতা গুণাঙ্ক)‌ পরিমাপ করে বুঝে নেবে কখন কেমন জল দিতে হবে, জল তোলার জন্য কখন সুইচ অন করতে হবে, বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালাতে হবে– এই ধরনের কাজগুলো সেই যন্ত্রটাই করে দেবে। এই ধরনের আধুনিক যন্ত্রগুলো নিয়েই আগামী দিনের পড়ুয়াদের হাত পাকাতে হবে। ব্যাপারটা বেশ সহজ।
• তাহলে বলছেন ভবিষ্যতে মানু্যের বদলে রোবট বা রোবটের মতো যন্ত্রগুলোই মানুষের জায়গা নেবে?‌
ড.‌ সহস্রবুদ্ধে:‌ প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের পেশিশক্তির প্রয়োগ এবং কাজের জায়গা কমছে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে মানুষের কাজ কোনও অংশে কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে অনেক সময় লাগে এবং অপেক্ষাকৃত পরিশ্রমসাধ্য কাজগুলিতেই মানুষের অংশগ্রহণ কমানোর চেষ্টা চলছে। অনেক মানুষ নোংরা নালা পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে মারাও যান। একই বিপদ থাকে খনিশ্রমিকদের কাজেও। এই সমস্ত বিপদসঙ্কুল কাজে রোবটের ব্যবহার হলে ক্ষতি কোথায়?‌ আর, সেই রোবটের নিয়ন্ত্রণও তো মানুষের হাতেই থাকছে, শুধু তাকে রোবটটা চালানো শিখতে হবে। সমাজের উন্নতি চাইলে যে মানুষটা নোংরা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগাতেন, তাঁকেই সেই রোবট চালানোর কাজটা শেখানো যেতে পারে।
• সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি কেমন দেখলেন?‌
ড.‌ সহস্রবুদ্ধে:‌
ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করাটা সহজ নয়, যেটা এসএনইউ করে দেখাচ্ছে। পড়ুয়াদের মধ্যে মূল্যবোধ চারিয়ে দেওয়া, অসম্ভব সুন্দর ক্যাম্পাসের পুরোটাই যেন শৃঙ্খলায় মোড়া। আমি আশা রাখব, একদিন দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিভার্সিটিতে পরিণত হবে এসএনইউ। সর্বোচ্চ মানের গবেষণামূলক কাজে পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তো রয়েইছে, সর্বোপরি আমার যেটা ভালো লেগেছে, তা হল স্টার্ট–আপ তৈরিতে পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ করা। আশা রাখি, অদূর ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী এখান থেকেই বেরোবে।

জনপ্রিয়

Back To Top