আজকাল ওয়েবডেস্কঃ এক মাসও কাটেনি, এ বছরের বাজেট পেশ করার সময়ে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি ঘামতে শুরু করেন। সতীর্থরা ওঁকে বসে পড়তে বলেন। চকোলেট এগিয়ে দেন। পরে জানা যায় ওঁর মাথা ঘুরছিল, ঝিমুনি আসছিল, প্রেসার হঠাৎ খুব কমে গিয়েছিল। ডাক্তারি পরীক্ষায় আরও জানা যায় ওঁর সুগারও খুব ফল করেছিল। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসিমিয়া। এই রোগের আরও কয়েকটি লক্ষণ, শরীরে কাঁপুনি, উদ্বেগ, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত শ্বাস। এই রোগের সহজ মানে, রক্তে গ্লুকোজের পরিমান অনেকটা কমে যাওয়া। এই গ্লুকোজই আমাদের শরীরের মুখ্য চালিকা শক্তি। আমাদের মস্তিষ্কেরও। তাই হাইপোগ্লাইসিমিয়া মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। চিকিৎসকদের মতে, এমনিতে গ্লুকোজের ঘাটতি হয় না। কারণ আমাদের শরীর লিভার আর পেশীর গ্লাইকোজেনের সঞ্চয় থেকে দরকারি গ্লুকোজ জোগাড় করে নেয়। এমনকী লম্বা উপোসের পরেও গ্লুকোনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় আমাদের দেহ গ্লুকোজের বন্দোবস্ত করে নেয়, আমাদের লিপিড আর প্রোটিনের সঞ্চয় ভেঙে।
কিন্তু হাইপোগ্লাইসিমিয়া সব হিসেব গোলমাল করে দেয়। যাঁরা সাধারণত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধ খান, বা ইনসুলিন নেন, তাঁদের যদি কোনও কারণে ওভারডোজ হয়ে যায়, তার উপরে যদি খাওয়া দাওয়া কম আর শারীরিক পরিশ্রম বেশি হয়, তখন এই সমস্যা হয়। এবং যে হেতু আমাদের মস্তিষ্ক নিজেকে সচল রাখার জন্য গ্লুকোজের উপরে খুব বেশি নির্ভরশীল, তাই কয়েক মিনিটের হাইপোগ্লাইসিমিয়া, বা অল্প সময়ের জন্য হলেও একাধিক অ্যাটাক কিন্তু কোমা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই হাইপোগ্লাইসিমিয়া খুব অল্প সময়ের জন্য হলে সঙ্গে সঙ্গে চিনি, মিষ্টি, চকোলেট বা সোজা সরল কার্বোহাইড্রেট দিয়ে দিলে রোগী সুস্থ বোধ করেন। কিন্তু এর প্রকোপ বেশি হলে সেটাকে একদম হেলাফেলা করা উচিত নয়। শুধু গ্লুকোজ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া নয়, হাসপাতালে ভর্তি করে গ্লুকোজের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এমনকী ইন্ট্রাভেনাস গ্লুকোজ দেওয়ারও দরকার পড়ে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top