বিজয়প্রকাশ দাস,পূর্ব বর্ধমান: মারণব্যাধিকে উপেক্ষা করে উচ্চমাধ্যমিকে ভাতার ব্লকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সফল হয়েছেন মহসিনা ইয়াসমিন। তঁার প্রাপ্ত নম্বর ৪৭৫। শতাংশ হিসেবে ৯৫। কলা বিভাগের এই ছাত্রী মাথায় ব্রেন টিউমারের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়েও পরীক্ষা দিয়েছেন। এখন তঁার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সঠিক চিকিৎসার ওপর। তঁার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ থাকায় ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য সকলের সাহায্য–সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের লোকেরা। জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট হঠাৎ করে মাথায় মারাত্মক ব্যথা অনুভব করেন মহসিনা। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে তঁার ‘ব্রেন টিউমার’ হয়েছে বলে জানতে পারা যায়। তারপর ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ভারতের মনিপালে তঁার চিকিৎসা শুরু হয়। ২০১৭ সালে এই মারণব্যাধি নিয়েই তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ নম্বর পান। এবারও চিকিৎসাধীন অবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন।
ছাত্রীর বাবা মহিবুল ইসলাম জানান, তিনি প্রাইভেট টিউশনি করে সংসার চালান। ২০১৬ সালে এই রোগ ধরা পড়ার পর নিজেকে খুব অসহায় বোধ হয় তঁার। মেয়ের চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। অনেক কষ্টে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও মেয়েকে দেওয়ানো হয়েছে। কিন্তু তঁার চিকিৎসা এবং পড়াশোনা করানোর খরচ নিয়ে এখন খুব চিন্তায় তিনি। ইয়াসমিন বামুনারা এলসিডিপিএস ইনস্টিটিউশন থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা হায়দার আলি জানান, এই মারণব্যাধি নিয়েও মহসিনা ভাল ফল করেছেন। তঁার জন্য তঁারা সকলেই গর্বিত। কঠিন অসুখ থেকে তিনি যাতে সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেইজন্য তঁারা স্কুলের পক্ষ থেকে তঁার পাশে দঁাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ছাত্রী মহসিনার কথায়, ‘আমার যে রোগ হয়েছে, তা নিয়ে আমি বেশি চিন্তা করি না। কারণ, তাতে মা–বাবা খুব কষ্ট পান। তাই আমি সব সময় পড়াশোনায় ডুবে থাকতে চাই। আমার ইচ্ছা, সরকারি আধিকারিক হিসেবে চাকরি করা। যাতে সমাজের উপকারের পাশাপাশি পরিবারেরও সহযোগিতা করতে পারি।’‌                     ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top