আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে লক ডাউন। দেশে দেশে শহরে শহরে মানুষ হঠাৎ ঘরবন্দি। এক দিন-দু’দিন নয়, টানা চলছে এই পরিস্থিতি। দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। বুঝতে পারছেন না কী করবেন। কী করে মানিয়ে নেবেন এই জীবনযাত্রার সঙ্গে। অনেকে অবসাদের শিকার হচ্ছেন কমবেশি। এমন একটা সময়ে একটু ভালো থাকার, চাঙ্গা থাকার টিপস নিয়ে এগিয়ে এসেছেন এমন কয়েকজন, যাঁরা বিশেষ কাজ বা পেশার স্বার্থে স্বেচ্ছাবন্দি থেকেছেন দীর্ঘদিন। মাসের পর মাস। তাঁদের কেউ মহাকাশচারী, কেউ নাবিক, কেউ বা আবার সাবমেরিনের প্রাক্তন কম্যান্ডার। দেখে নেওয়া যাক, তাঁরা কে কী বলছেন......

 

নিজের জন্য একটা শিডিউল চাই: নাসার অবসর প্রাপ্ত মহাকাশচারী স্কট কেলি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে এক বছর  কাটিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘আপনার নিজের মানসিক গঠনটা খুব জরুরি বিষয়। আমাদের সামনে প্রত্যাশার জায়গাটা ঠিকঠাক হওয়া উচিত। আমাদের এখনও বেশ কিছুদিন এ ভাবেই থাকতে হতে পারে। প্রায় স্পেস স্টেশনে থাকার মতোই। আমার নিজের জন্য একটা দৈনন্দিন শিডিউল থাকতে হবে। ঘুম থেকে ওঠা ও ঘুমোতে যাওয়ার একটা নির্দিষ্ট সময়। এর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট রুটিনে ব্যায়াম করা খুব জরুরি। শরীর আর মন দুটোই ভালো থাকে। এ ছাড়া আপনার বাড়িতে বাগান থাকলে সেখানে সময় কাটান, গাছে জল দিন,পাতা পরিষ্কার করুন। সেটাও না থাকলে জানলা খুলে কিছুক্ষণ বাইরেটা দেখুন। সেটাও একটা নির্দিষ্ট রুটিনে।’

সামনে মিশন থাকা জরুরি: নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের প্রাক্তন কম্যান্ডার ভিনসেন্ট লারনাউদি আইফেল-এর নিদান, ‘নিজের জন্য একটা মিশন ঠিক করুন আর তাতেই মনোনিবেশ করুন। এখন আমরা সকলে ঘরে আটকে আছি কেন? শুধু নিজেদের সুরক্ষিত রাখা নয়, অন্যদেরও নিরাপদ রাখতে। সেটা বড় কম কথা নয়।’ তাঁর ও প্রস্তাব, দিনের একটা রুটিন নিজের জন্য বানাতে হবে। কিছু না কিছু করতে হবে। সাবমেরিন তাঁর ক্রু মেম্বাররা যেমন অবসর সময়ে মডেল বানাতেন, বা সাবমেরিনের আলোতেই গাছ পালা করতেন। মোদ্দা কথা, নিজের জন্য একটা স্পেস তৈরি করুন।

দিন গুনতে হবে না: ইজাবেল অটিসিয়ের। বিশ্বের প্রথম মহিলা যিনি নিজের পালতোলা নৌকা করে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস একা একা ভেসেছেন মহাসাগরে। তাঁর কথায়, ‘আমার কখনও একা লাগেনি, কারণ আমি একা থাকাটাই উপভোগ করেছি। আর কখনও ভাবিনি আর কতদিন বাকি আছে। আপনারাও এই ঘরবন্দী থাকতে থাকতে ভাববেন না ঠিক আর কতদিন এভাবে কাটাতে হবে।’ তাঁর পরামর্শ এই সময়টাকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন। নতুন নতুন গান শুনুন, কিছু লিখুন, আঁকুন, যা ইচ্ছে সেটাই করুন ভালোলাগবে। 

মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক: জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট সিপ্রিয়েন ভার্সু মঙ্গল অভিযানের একটি কাজে একটা গোটা বছর আরও পাঁচজনের সঙ্গে একটা ঘরে আটকে ছিলেন। তাঁর কথায় এমন একটা পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদ অস্বাভাবিক নয়। এরজন্য অপরাধবোধে ভোগার কোনও দরকার নেই। বাইরের জগত থেকে আপনি যখন বিচ্ছিন্ন তখন নিজেকে প্রফুল্ল রাখতে যোগাভ্যাস, হাল্কা ব্যায়াম করতে পারেন, ঘরেই কিছু খেলা খেলতে পারেন। এভাবেই নিজের একটা জগত গড়ে ভালো থাকতে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top