আজকালের প্রতিবেদন- কারও বয়স ২২, কেউ আবার ৯৫ বছর, কেউ আবার মাত্র ২২ দিনের দুধের শিশু। হার্টের জটিল অসুখের শিকার থেকে কেউই বাদ নেই। সোমবার প্রমাণিত হল বি এম বিড়লা হাসপাতালের রোগীদের কথাতেই। পূর্ব ভারতে হার্টের আধুনিক চিকিৎসায় ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবজীবন পাওয়া বিভিন্ন ধর্মের ১৪ জন রোগী ভাগ করে নিলেন নিজেদের অভিজ্ঞতা। 
বিরল থেকে বিরলতম হার্টের জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৮ বছরের জয়দীপ ঋষি, ২২ দিনের একরত্তি আনমোল। জয়দীপের ১০ বছর বয়সে ‘‌করোনারি আর্টারিওভেনাস ফিসচুলা’ ধরা পড়ে‌। প্রতি দশ লাখে এক জনের দেখা মেলে বিরল এই অসুখের। এতে করোনারি ধমনি থেকে উপশাখার মতো বের হয়ে ফুলে হার্টের ডানদিকে মিশেছিল। কাটাছেঁড়া ছাড়া বিশেষ একটি প্লাগ দিয়ে বাড়তি শিরা বন্ধ করা হয়। ধানবাদের চন্দাদেবীর আগে দু’‌বার গর্ভপাত হয়। তৃতীয় সন্তান আনমোলের হার্টের দু’‌দিকের শিরা অদলবদল ছিল। জন্মের ২২ দিন বয়সে আর্টারিয়াল সুইচ পদ্ধতিতে ওপেন সার্জারি করে শিরাগুলি যথাযথ স্থানে বসান পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ শুভেন্দু মণ্ডল। 
সুদূর বাংলাদেশ থেকে আসা টি ভি আজমের শরীরে ২৫ বছর আগে অ্যাডভান্স হার্ট ফেলিওরের চিকিৎসায় সিআরটিডি পদ্ধতি প্রথম প্রয়োগ করা হয়েছিল। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা করিয়ে এখনও সমস্ত কাজ করে সুস্থ–সবলভাবে জীবন কাটাচ্ছেন প্রাক্তন ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত। বিশিষ্ট হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ধীমান কাহালি বলেন, ‘‌উপসর্গ ছাড়াই এখন যে কোনও সময়ে যে কোনও বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মানুষের এখন খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস, জীবনশৈলী বদলে গেছে। ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার বন্ধ করে নিয়মিত শুগার–‌প্রেশার পরীক্ষা , এক্সারসাইজ করা দরকার। একটু সচেতন হলে এবং দ্রুত চিকিৎসায় ৯০ শতাংশ প্রতিরোধ সম্ভব।’‌ হাসপাতালের চিফ অপারেটিং অফিসার ডাঃ সিম্মারদীপ গিল বলেন, ‘‌৩০ বছরে আমরা মানুষের বিশ্বাস অর্জনে সফল হয়েছি এটাই বড় প্রাপ্তি। ’‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top