সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: কোভিড ১৯–‌এর হাত থেকে বঁাচাতে জীবাণুমুক্ত করার জন্য রাসায়নিক স্প্রে করা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতিকর, এ–‌কথা জানার পরেও জীবাণুনাশক টানেল কেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি কেন্দ্র, জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি সুভাষ রেড্ডি ও বিচারপতি এমআর শাহের বেঞ্চকে সোমবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, জীবাণুমুক্তির কাজে অতিবেগুনি আলো ব্যবহারের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রক কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি। তবে রাসায়নিক স্প্রে মানুষের পক্ষে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতিকর বলে মেনে নেন তিনি।
সম্প্রতি জনৈক গুরসিমরন সিং নারুলা জনস্বার্থ মামলায় বলেছেন, মানুষের ওপর রাসায়নিক জীবাণুনাশক ধেঁায়ার সাহায্যে ছড়ানো কিংবা স্প্রে করার জন্য জীবাণুনাশক টানেল বসানো, তৈরি করা এবং তার বিজ্ঞাপন দেওয়া অবিলম্বে নিষিদ্ধ করুক কেন্দ্র। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি হলফনামায় জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য ও হাসপাতাল রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং দায় রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের।
ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেল্‌থ সার্ভিসের নেতৃত্বে ৯ জুন বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে জীবাণুনাশক টানেল, বিভিন্ন রাসায়নিক ও জীবাণুনাশক স্প্রে করার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি কোভিড ঠেকাতে টানেল বা ক্যাবিনেট বা চেম্বারে কোনও ব্যক্তির ওপর জীবাণুনাশক স্প্রে করার সুপারিশ করেনি। 
কারণ:‌ ১) ড্রপলেট/‌স্পর্শে সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে পারে না‌ স্প্রে। ২) রাস্তায়, ফুটপাথে কোভিডের জীবাণু ঘুরে বেড়ায় না। উল্টে ধুলো–ময়লায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে স্প্রে–‌ই। ৩) মেঝেয় স্প্রে করলে তা যথেষ্ট সময় জুড়ে থাকে না। ডিজাইন–‌করা মেঝে বা ফ্যাব্রিকে ঢাকা মেঝেতে জীবাণুনাশক কাজ না–‌ও করতে পারে। ৪) অপারেশন থিয়েটারে ফর্ম্যালিন স্প্রে করাটা ক্ষতিকর এবং এতে সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির ক্ষতি হতে পারে।
‌হলফনামায় কেন্দ্রের দাবি, কোনও নির্দেশিকাতেই টানেল তৈরি, বসানো বা সেজন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি।

জনপ্রিয়

Back To Top