সাগরিকা দত্তচৌধুরি: কখনও গরম, আবার কখনও ঠান্ডা। দুপুরের দিকে আচমকা এতটাই গরম লাগছে যে, কারও কারও ঘাম হচ্ছে। আবার রাতে হঠাৎ ঠান্ডা লাগছে। গায়ে চাপাতে হচ্ছে গরম পোশাক। রাতে গরম চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমোতে হচ্ছে। আবহাওয়ার এই তারতম্যের ফলে রোগজীবাণু বাসা বাঁধছে। ঘরে ঘরে জ্বর–সর্দি–কাশি, গলাব্যথা, ভাইরাল ফিভার নিয়ে জেরবার শিশু থেকে বয়স্ক সকলে। গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা–গরমের ফারাকের জন্য চিকিৎসকদের ক্লিনিক, হাসপাতালে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার এই তারতম্য জীবাণুকুলের পক্ষে আদর্শ। ফুসফুসের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। যে কারণে কখনও হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়ছে। ফলে, সতর্ক থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। 
ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের অধ্যাপক ডাঃ প্রিয়ঙ্কর পাল জানিয়েছেন, ‘এখন মূলত ভাইরাল ফিভার দেখা দিচ্ছে। বেশিরভাগ শিশুর জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড কাশি হচ্ছে। অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস–প্রশ্বাসের সমস্যা বাড়ছে। যাদের হাঁপানি রয়েছে, তাদের বাড়ছে। আর যাদের হাঁপানি নেই তাদেরও প্রবল শ্বাসকষ্ট হওয়ায় নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে। ২ মাস থেকে ২ বছর বয়সি শিশুদের ব্রঙ্কিওলাইটিস হয়। এর ফলে ফুসফুসে হাওয়া ঢোকার রাস্তাগুলো সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। নিউমোনিয়া, ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।’‌ জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘‌আবহাওয়ার পরিবর্তনে হঠাৎ গরমে ভাইরাসের প্রকোপে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ে। তবে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপও দেখা দিচ্ছে। হাঁচি, কাশি একজনের থেকে অপরজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায়। রুমালের থেকে ন্যাপকিন ব্যবহার করা, মুখে মাস্ক পরলে ভাল হয়। সোয়াইন ফ্লু–‌র প্রকোপ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডাঃ রঞ্জন পাল বলেন, ‘‌এই সময়টায় ‌শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালি থেকে অ্যালার্জি, হাঁচি, সর্দি, গলাব্যথা, ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়। গরম জলে লবণ দিয়ে গার্গল করা দরকার। সকালে–রাতে ঈষদুষ্ণ গরম খেলে ভাল হয়। তবে গলার স্বর ভাঙলে বা গলা বসে গেলে গরম জলে গার্গল উচিত নয়। গলা ভাঙলে কথা কম বলবেন। জ্বর হলে প্রথমেই অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে প্যারাসিটামল খাওয়া দরকার। তবে ৪–৫ দিনে না কমলে তখন চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যেতে পারে।’‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top