সাগরিকা দত্তচৌধুরি‌: বর্ষা শুরু হতে না হতেই চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিসের সমস্যায় জেরবার অনেকেই। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হতে দেখা যাচ্ছে আট থেকে আশি— সকলকেই। তবে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই নিশ্চিন্তে বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন বলে অভয় দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের আউটডোরেও বর্ষার মরশুমে কানজাংটিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর ভিড় ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস হচ্ছে চোখের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই অন্যদের মধ্যে যাতে না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চলেও এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডাঃ সমীর ব্যানার্জির কথায়, ‘‌বর্ষায় কনজাংটিভাইটিসের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। সরাসরি ভাইরাসের সংক্রমণ ছাড়াও কিছুটা নিজের হাতের সাহায্যেও হয়। কারণ বৃষ্টিতে অনেক সময় মানুষ ভিজে যায়, তার পর ভিজে হাতেই মাথা, চোখ, মুখ মোছার চেষ্টা করে। ফলে সেই অবস্থায় হাত পরিষ্কার না থাকায় চোখে সংক্রমণ হয়। তা ছাড়া ফাংগাল ইনফেকশনও দায়ী। এ ছাড়াও বর্ষায় জামাকাপড় শুকোয় না। স্যাঁতসেঁতে জায়গা, ভিজে গামছা, তোয়ালে, কাপড় ব্যাকটেরিয়ার আখড়া হয়ে ওঠে। রোদের তেজ কম থাকায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৌঁছে ব্যাকটেরিয়াগুলি মারতে পারে না।  কাজেই বর্ষায় পেটের অসুখ যেমন বাড়ে, তেমনই কনজাংটিভাইটিসও বেশি দেখা যায় অন্যান্য ঋতুর তুলনায়।’‌ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডাঃ হিমাদ্রি দত্ত বললেন, ‘‌সাধারণত অ্যাডিনো ভাইরাস থেকে এই রোগ হয়। কিন্তু তার আবার অনেক ভাগ আছে। মূলত টাইপ ৩, ৭–এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে শুধু অ্যাডিনো ভাইরাসের ফলেই যে হবে, এমনটা নয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, ময়লা হাতে চোখ ঘষলেও হতে পারে। সুতরাং চোখে হাত দেওয়ার আগে ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।’‌

 

উপসর্গ

➲ চোখ খুব লাল হয়
➲ ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ হলে চোখে পিচুটি জমবে, ময়লা বেশি জমবে
➲ ভাইরাসের প্রকোপ হলে লাল ভাব বেশি থাকবে
➲ চোখের পাতা ফুলে যাবে
➲ চোখের ভেতর অস্বস্তি, সামান্য ব্যথা হবে
➲ চোখ চুলকোবে, জ্বালাভাব, দেখতে অসুবিধে হবে
➲ সকালে ঘুম থেকে উঠলে চোখের পাতা জোড়া লেগে যাবে, আঠা আঠা মনে হবে 
➲ রোদে তাকালে কষ্ট অনুভূত হবে
➲ চোখ দিয়ে অতিমাত্রায় জল পড়বে

কী করবেন

➲ ভাল করে হাত সাবান দিয়ে ধোবেন। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকবেন।
➲ জনবহুল জায়গায় কিংবা ট্রেনে, বিমানের শৌচাগারে ব্যবহৃত কলের হাতল ব্যবহারের আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন।
➲ চোখে পরিষ্কার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দেবেন।
➲ রোদে বেরোলে চোখে কালো চশমা ব্যবহার করবেন।
➲ অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিতে হবে।
➲ সম্ভব হলে ১০–১৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিন।
➲ সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই পরামর্শ নিন চক্ষু চিকিৎসকের।
➲ এক চোখে যদি সংক্রমণ হয়, সেই চোখের জল যাতে অন্য চোখে না যায়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

কী করবেন না

➲ নোংরা হাত, অপরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখ মোছা বা চুলকোনো যাবে না।
➲ রুমাল, কি–বোর্ড, বই, পেন প্রভৃতি জিনিস ব্যবহারের পর সেই হাত দিয়ে চোখ ঘষবেন না।
➲ রুমাল, গামছা, তোয়ালে দিয়ে সংক্রমিত চোখ মুছে অন্য কোনও বস্তুর সংস্পর্শে রাখবেন না।
➲ ধুলোবালি, বেশি রোদ বা আলোর মধ্যে যাবেন না।
➲ সংক্রমিত চোখ ঘষে অন্য চোখে হাত দেবেন না।
➲ বর্ষায় পুকুরে স্নান করবেন না। শহরের সুইমিং পুল থেকে সংক্রমণ বেশি হয়। অন্তত দিন দশেক সুইমিং পুলে যাবেন না।
➲ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে কোনও ওষুধ চোখে লাগাবেন না‌।

জনপ্রিয়

Back To Top