আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নের ‘‌রোড ম্যাপ’‌ তৈরি করে ফেলল কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। নতুন নীতিতে পাঠ্যক্রমে আমূল সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। জোর দেওয়া হবে বহু ভাষা শিক্ষার ওপর। প্রাক্‌–‌প্রাথমিক স্তর থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলশিক্ষা হবে ৫+৩+৩+৪ কাঠামোর। প্রাক্‌–‌প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ শিশুর ৩ বছর বয়স থেকে এর শুরু। শিগগিরই মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে শিক্ষানীতির চূড়ান্ত খসড়াটি। এই মুহূর্তে এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল নিশঙ্কের বিবেচনাধীন। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে প্রকাশ পাবে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি। 
শিক্ষানীতি ও তার বাস্তবায়নের পথে অস্পষ্টতা রয়েছে, বিরোধীদের এই অভিযোগের পর নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরামর্শ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিকরা। যে বিষয়টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য তা হল, প্রাক্-প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের ‘‌শিক্ষার অধিকার আইন’‌–‌এর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে শিক্ষানীতির খসড়ায়। নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে সরকারের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হয়নি। নতুন শিক্ষানীতিতে এবার ১০+২ কাঠামোর স্কুলশিক্ষার পরিবর্তে চালু হবে ৩ বছর বয়স থেকে ৫+৩+৩+৪ স্তরের ব্যবস্থা। বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্যের মতো আলাদা আলাদা বিভাগে বিশেষ জ্ঞান সঞ্চয়ের পরিবর্তে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষানীতির খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষা পদ্ধতিতে আমূল সংস্কার আনা হবে। পড়ুয়াদের মধ্যে বৌদ্ধিক চিন্তা, সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, বহুভাষিতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং কম্পিউটার–সাক্ষরতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। দাবি, একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে পড়ুয়ার সর্বাঙ্গীণ বিকাশে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে ওই খসড়ায়।  বর্তমান শিক্ষার অধিকার আইনে ৬ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুদের ‘‌অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার’‌ দেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষানীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাক্‌–প্রাথমিক স্তর (‌অর্থাৎ শিশুর ৩ বছর বয়স)‌ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী যাতে বিনামূল্যে শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করবে সরকার। এ ছাড়াও নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত শিশুর বিদ্যালয় শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। আরও বলা হয়েছে, সব শিশুকে সাক্ষর করে তোলার পাশাপাশি তাদের গণিতে দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং স্কুলগুলিকে আংশিক নয়, সম্পূর্ণ শিক্ষানীতি গ্রহণ করতে হবে এবং তার বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে পর্যবেক্ষণও করবে। শিক্ষানীতির বাস্তবায়নে সতর্কতা অবলম্বন, যৌথ পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতামূলক ভূমিকা থাকা দরকার বলে মনে করছেন শিক্ষানীতির প্রস্তুতকারকরা। ২০৩০ সালে ফের কেন্দ্র ও ‌রাজ্য নতুন শিক্ষানীতির পর্যালোচনা করবে।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন ইসরো প্রধান কে কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন কমিটি জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়াটি তৈরি করেছে। এতে হিন্দি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের মতামত চেয়ে গত জুনে খসড়া প্রস্তাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২ লক্ষ পরামর্শ জমা পড়ে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top