আজকালের প্রতিবেদন: রাজ্যের ১২টি মেডিক্যাল কলেজে চালু হতে চলেছে কানের সমস্যার যাবতীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য অডিওভেস্টিব্যুলার ক্লিনিক। এতদিন শুধুমাত্র এস এস কে এম হাসপাতালেই এই ক্লিনিকের সুবিধা পেতেন রোগীরা। আর কোথাও ছিল না। কোথাও কোথাও দু–একটি টেস্ট হলেও একসঙ্গে সবরকম পরীক্ষা হত না। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে আগামী বুধবার থেকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল, আর জি কর এবং এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হচ্ছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এই মাসের শেষের দিকে শুরু হবে। বাকি ৮টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধাপে ধাপে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। সেগুলি হল— মেদিনীপুর, কল্যাণীর জেএনএম, উত্তরবঙ্গ, বাঁকুড়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান ও সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। 
মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নিয়মানুসারে সব মেডিক্যাল কলেজে ইএনটি বিভাগের সঙ্গে আউটডোরে রোগীদের সুবিধার্থে অডিওভেস্টিব্যুলার ক্লিনিক বাধ্যতামূলকভাবে রাখতেই হবে। না হলে ডাক্তারির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের আসন রক্ষায় সমস্যা হবে। ১২টি মেডিক্যাল কলেজে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (‌পিপিপি)‌ মডেলে হবে এই ক্লিনিক। কিন্তু তার জন্য রোগীদের কোনও গাঁটের কড়ি গুনতে হবে না। এই প্রকল্পের নোডাল অফিসার এসএসকেএমের ইএনটি–র বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অরুণাভ সেনগুপ্ত বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগেই এটি সম্ভব হচ্ছে। না হলে কখনই এটি বাস্তবায়িত হত না। কারণ, বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কানের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচের বহর প্রায় ৬ গুণ বেশি বইতে হয় অসহায় রোগীদের। সেই জায়গায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীরা পরিষেবা পাবেন।’‌
রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘কানের বহু পরীক্ষা সব জায়গায় এতদিন হত না।’‌ অরুণাভবাবু জানান, বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের সমস্যার যাবতীয় পরীক্ষা এক ছাদের নীচে মিলবে। কানের শ্রবণক্ষমতা পরীক্ষায় পিওর টোন অডিওমেট্রি (‌পিটিএ)‌, মধ্যকর্ণের সমস্যা জানতে ইম্পিডেন্স অডিওমেট্রি, ওটোঅ্যাকোয়াস্টিক এমিসন, ভার্টিগো, মাথা ঘোরা নির্ণয়ে ইলেক্ট্রোনিস্টেমোগ্রাফি, ব্রেনস্টেম ইভোকড রেসপন্স অডিওমেট্রি (‌বেরা)‌ প্রভৃতি পরীক্ষা হবে। বাইরে কোথাও ৩০০, ৭০০, ৭০০০ টাকার বেশি খরচ পড়ে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top