প্রীতিময় রায়বর্মন: ১ মে, ১৯৯৭। ব্যারাকপুরে চোখের চিকিৎসায় এক নতুন ‘‌দিশা’‌–র সন্ধান। পথচলা শুরু দিশা আই হসপিটালের। এরপর একে একে শেওড়াফুলি, দুর্গাপুর, সিঁথি, তেঘরিয়া, বেহালা, বারাসত, গড়িয়াহাট, মৌড়িগ্রাম, বর্ধমান এবং শিলিগুড়ি। লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সাধ্যের মধ্যে অত্যাধুনিক চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবার রাজারহাটের নিউ টাউনে দিশার ১৫তম আই হসপিটাল ‘‌দিশা মহানগর’‌। 
১ মার্চ, রবিবার উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ মিশন সারদা পীঠের সহ–সম্পাদক স্বামী সত্যধামানন্দ মহারাজ। ছিলেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য, হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন, অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া, বন্ধন ব্যাঙ্কের কর্ণধার চন্দ্রশেখর ঘোষ–সহ সমাজের বিশিষ্টরা। ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্যের কথায়, ‘ল্যামিনার ফ্লো অপারেশন থিয়েটারে সজ্জিত দিশা মহানগর রোগীদের সর্বোত্তম চোখের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত। এক ছাতার তলায় চোখের চিকিৎসার অত্যাধুনিক সব পরিকাঠামোই রয়েছে এখানে।’‌ ‌৮০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে ১০ তলার ‌‘‌দিশা মহানগর’ পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় চোখের হাসপাতাল। রয়েছে ৬‌টি ল্যামিনার ফ্লো অপারেশন থিয়েটার, ১৬ শয্যার রিকভারি রুম, ৫০ শয্যার সার্জিক্যাল সেন্টার এবং ২০টি ওপিডি ক্লিনিক। জানা গেল, ‌ক্যাটার‌্যাক্ট বা ছানি অপারেশনের আধুনিক সব চিকিৎসাপদ্ধতিই রয়েছে ‘দিশা মহানগর’‌–এ। যার মধ্যে অন্যতম ফেমটো লেজার ফেকো ক্যাটার‌্যাক্ট সার্জারি। এ ছাড়া ল্যাসিক সার্জারি, ডায়াবিটিক রেটিনোপ্যাথি–সহ রেটিনা ও কর্নিয়ার সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। একদিনে প্রায় ২০০ সার্জারি সম্পন্ন করার পরিকাঠামো যেমন রয়েছে, তেমনই ওপিডি–তে চোখ দেখাতে পারবেন ১,০০০–এরও বেশি রোগী। যুক্ত আছেন প্রখ্যাত কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ সমর বসাক। 
আর্টিফেসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়েও কাজ হচ্ছে এখানে। উদ্বোধনের পর ৪ দিনে প্রায় ২০০ জনের চোখের সার্জারি হয়েছে এই হাসপাতালে।‌ এখন দিশার সব কটি হাসপাতাল মিলিয়ে বছরে প্রায় ১২ লক্ষ রোগীর চোখ দেখা এবং প্রায় ১ লক্ষ সার্জারি সম্পন্ন হচ্ছে।‌ শুধুমাত্র চোখের চিকিৎসাই নয়, দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আই ব্যাঙ্ক দিশা আই হসপিটাল। রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা মিলবে কিনা জানতে চাইলে সংস্থার সিএফও রণবীর ভট্টাচার্য জানালেন, ‘‌ব্যারাকপুরে রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। আশা করছি দিশা মহানগরেও দ্রুত সে ব্যবস্থা চালু করা যাবে।’‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top