আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছেলেবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়, গালাগালি করা অন্যায়। ছাত্রজীবনে বাড়ির লোকের সামনে মুখ খারাপ করলে শাস্তি ছিল অবধারিত। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, গালাগালি করা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। হ্যাঁ, ভুল পড়েননি, গবেষকদের দাবি, গালাগালি করলে রাগ কমে। ফলত, হালকা হয় মন। 
কখনও খেয়াল করে দেখেছেন, রাগের মাথায় এলোপাথাড়ি 'বিশেষণ' ঝাড়লে 'রিল্যাক্সড' লাগে? এ প্রসঙ্গে 'যব উই মেট' হিন্দি সিনেমাটির কথা মনে আসতেই পারে। শাহিদ কাপুরের বুদ্ধিতে লেঙ্গি মারা বয়ফ্রেন্ডকে তুমুল গালি দিয়েছিলেন করিনা কাপুর। তাতে বিষণ্ণতা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেয়েছিল করিনা অভিনীত চরিত্র গীত। এই থেরাপিকেই কিন্তু সিলমোহর দিচ্ছেন কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। 
তাঁরা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন, মন খুলে গালাগালি দিলে রাগ প্রশমিত হয়, ফলে মন তাজা হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ওপরেই চালানো হয়েছিল এক অভিনব পরীক্ষা। প্রচণ্ড ঠান্ডা জলে হাত চুবিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল তাদের। দেখা গেল, যারা এই অবস্থায় গালাগালি করেছে তারা বেশিক্ষণ হাত ডুবিয়ে রাখতে পেরেছে। গালাগালি না দেওয়া 'ভদ্রসভ্য' ছাত্ররা হাত তুলে নিয়েছে অনেক আগে। 
আজকের যুগে অবশ্য গালাগালি দেওয়াটাই ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাটে নির্দ্বিধায় শ-কার ব-কার করছে লোকজন। প্রভাব পড়েছে সাংস্কৃতিক জগতেও। সিনেমা, থিয়েটারের সংলাপে প্রবলভাবে ঢুকে পড়েছে 'অশ্লীল' শব্দ। সিনেমার ক্ষেত্রে 'বিপ' শব্দ দিয়ে আড়াল করা গেলেও থিয়েটারে তা হয় না। কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রমাণ করলেন, এই নিয়ে যতটা ছুঁৎমার্গ দেখাই আমরা, ততটা না দেখালেও চলে। শরীর-স্বাস্থ্যের ব্যাপার বলে কথা।

জনপ্রিয়

Back To Top