ডাঃ পল্লব বসুমল্লিক- ডাঃ দেবী শেঠির সঙ্গে বহু চেষ্টার পর যোগাযোগ গত রাতে। সরাসরি বললেন, বেশ ভয়ে আছেন। কারণ তাঁর মনে হচ্ছে দেশ স্টেজ ‘‌থ্রি’‌‌–‌তে অচিরেই ঢুকবে। কলকাতায় সোমবার কোভিড–‌১৯ জনিত মৃত্যু তো তাঁর আশঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করল। মৃতের বিদেশে ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই, সুতরাং করোনাভাইরাস অতি ধীরে সমাজ বা গোষ্ঠীতে প্রবেশ করছে। ডাঃ শেঠি সবচেয়ে বড় বিপদের কথা বললেন, দেশে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। কী হতে পারে, ছবিটা ব্যাখ্যা করার সময়, মনে হল তিনি শিউরে উঠছেন। আমিও।
ভারত আজ, সোমবার থেকে প্রবেশ করল করোনা হানার পঞ্চম সপ্তাহে। আইসিএমআর–‌এর অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্তা গবেষক–‌বিজ্ঞানী ডঃ দেবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বললেন, ইতালিতে চতুর্থ সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬,৩৩২। পঞ্চম সপ্তাহে কোয়ান্টাম জাম্প— ২১,১৫৯!‌ ইরানে দু সপ্তাহে সংখ্যাটা ২৪৫ থেকে বাড়ল ১২,৭২৯–‌তে। তিনি মানতে না চাইলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ বর্ণে বর্ণে মানছে না কেন্দ্র এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন আইসিএমআর। ক্রিকেটে যেমন বাউন্সি পিচে ফাস্ট বোলারের মুখোমুখি ব্যাটসম্যানকে সারাক্ষণ শেখানো হয় অফস্টাম্পের বাইরের বল ছাড়, হু ডিরেক্টর জেনারেল ডাঃ টেডরস এধনম বারবার সতর্কবাণী দিচ্ছেন, হোয়েনএভার ইন ডাউট, টেস্ট টেস্ট অ্যান্ড টেস্ট। তিনি মনে করেন ভারতের মতো দেশে আরএনএ কিটের সাহায্যে লালারস পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ালে অনেক বেশি সংখ্যায় করোনা আক্রান্ত  ধরা পড়বেন। 
আপনি শঙ্কায়, ভাবছেন আপনার এবং পরিবারের কী হবে? অবিলম্বে মাস্ক ব্যবহার শুরু করুন‌। কারণ শুরুতে আমরা বলছিলাম, কোভিড–‌১৯ সংক্রমণের দুটোই মাত্র পথ। হাঁচি বা কাশির সঙ্গে নির্গত কফ বা থুতু। দ্বিতীয়টা, হাতের মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার স্ট্র‌্যাটেজি পরিবর্তন করতে চলেছে, যদিও তাদের সরকারি ওয়েবসাইট বা টুইটার হ্যান্ডেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সে অ্যাডভাইসরি দেওয়া হয়নি। হু–‌র এমার্জিং ডিজিজ এবং জুনোসিস বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মারিয়া ফান কেরকভ সোমবারই সম্পূর্ণ নতুন দিগনির্দেশ করেছেন। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে হাঁচি বা কাশির সঙ্গে নির্গত লালা বা কফ বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে ভেসে বেড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ ‘‌অ্যারোসল’‌ পদ্ধতিতে সে এবার থেকে ‘‌এয়ারবর্ন’‌ বা বাতাসবাহিত সংক্রমণও। একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর!‌ গৃহবন্দি অবশ্যই, সঙ্গে চলুক হাত  ধোয়া। আর মুখে মুখোশ, ঘরের বাইরে পা দিলেই। যে অঞ্চলে থাকেন, তার কাছাকাছি করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিললে বাড়িতেও স্নান, খাওয়া, শোয়া বাদে পারলে সারাক্ষণ পরে থাকুন। মাস্ক জোগাড় হয়নি? রুমাল, স্কার্ফ, মোটা নরম কাপড় ভাঁজ করে বেঁধে নিন। দিনের তাপমাত্রা, আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে কোভিড–‌১৯ বাতাসে সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা জ্যান্ত থাকতে পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top