ডাঃ পল্লব বসুমল্লিক

এটা অনেকেরই অজানা যে, বিশ্বের সর্বাধিক ভ্যাকসিন তৈরি হত ভারতেই। এখনও আমরা বিশ্বে অগ্রণী প্রস্তুতকারক। অক্সফোর্ড এবং অন্যান্য দেশের করোনা ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টাকে এতদিন করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে এসেছি সকলেই। কোভিড–‌১৯ রুখতে ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে ভারত ছিল ‘‌লেট স্টার্টার’‌। অনেক পরে দৌড় শুরু করেও অন্যান্য দেশকে ধরে ফেললাম আমরা। ‘‌কোভ্যাক্সিন’‌ প্রস্তুতির দৌড় একেবারে শেষ ল্যাপে। প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। শুধু কুকুর বা বাঁদর নয়, ভ্যাকসিন ট্রায়াল হয়েছে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের শরীরেই। ফেজ ওয়ানে সাধারণত ট্রায়াল হয় ২০ থেকে ৮০ জনের ওপর। ফেজ টু হিউম্যান ট্রায়াল করা হয় কয়েকশো মানুষের শরীরে। তেমন কোনও অ্যালার্জি কিংবা জীবনহানিকর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া এখনও নজরে আসেনি। প্রথম দুটি ফেজে সরাসরি কোভ্যাক্সিন নয়, ব্যবহৃত হয়েছিল তার প্রতিরূপ। এখন প্রায় কয়েক হাজার মানুষের দেহে পরীক্ষা চালানো হবে। এ পর্যায়ে ভ্যাকসিন ছাড়াও কন্ট্রোল গ্রুপে দেওয়া হবে ‘‌প্ল্যাসেবো’, ওষুধের মতো দেখতে সাধারণ তরল!‌‌ প্রস্তুতিপর্বে চূড়ান্ত সতর্কতায় ভাইরাস উড়িয়ে আনা হয় পুনের এনআইভি থেকে। যেটা সবার অজানা তা হল, এই ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহৃত ভাইরাসের উৎস কি ভারত?‌ কারণ এদেশে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ভাইরাসের দুটো স্ট্রেন বা ক্লেড এথ্রি এবং এথ্রিআই। জুলাই থেকে যে ট্রায়াল শুরু হবে, তাতে কিন্তু আসল ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হবে। ভারতে এ মুহূর্তে আরও ৩০টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরিতে নিয়োজিত। পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া অক্সফোর্ড ট্রায়ালের ভারতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পেয়ে বেশ কিছুটা অগ্রসর হতে পেরেছে। কিন্তু ভারত বায়োটেক প্রায় বাজিমাত করে ফেলল। তারা ইতিমধ্যে ১৪০টি গ্লোবাল পেটেন্টের মালিক এবং ১৬টি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। সেরা কৃতিত্ব সোয়াইন ফ্লু–‌র সময় তৈরি করা এইচ১এন১ ভ্যাকসিন এবং ভাইরাল গ্যাস্ট্রো‌এন্টেরাইটিস রুখতে তৈরি করা রোটাভ্যাক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যত তাড়াতাড়িই করা হোক, ভারতীয় ‘‌কোভ্যাক্সিন’‌ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ২০২১–‌এর মে বা জুন মাসের আগে আসা অনিশ্চিত। তবে প্রায় সব ভাইরোলজিস্টই একমত, ভারতে যে স্ট্রেন বা ক্লেড বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে, যদি তার থেকে এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে কার্যকর বা ফলদায়ী। আমেরিকা, চীন বা ইওরোপের ভ্যাকসিন ভারতে আদৌ কাজ না করতেই পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top