সাগরিকা দত্তচৌধুরি
করোনা আবহের মধ্যে ঘোর চিন্তা ও দোটনায় রয়েছেন দন্ত বিশেষজ্ঞরা। একদিকে নিয়ম মেনে বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব, অন্যদিকে রোগীকে কাছ থেকে মুখে হাত দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনও উপায় নেই চিকিৎসা করার। এত তাড়াতাড়ি করোনা থেকে পরিত্রাণ মিলছে না তা জানিয়ে দিয়েছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‌হু)–ও‌। সরকারি হাসপাতালে ইমার্জেন্সি পরিষেবা চালু থাকলেও বর্তমানে প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ রেখেছেন দাঁতের চিকিৎসকেরা। তবে কোভিড–১৯–কে সঙ্গী করেই যখন চলতে হবে, কাজেই বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করেই ক্লিনিক চালু করতে চাইছেন অধিকাংশ চিকিৎসক। শুধু লকডাউন ওঠার অপেক্ষায় তাঁরা। সুরক্ষাবিধির সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও এই সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।
ডেন্টাল সার্জেন ডাঃ প্রিয়দীপ ব্যানার্জি বলেন, ‘‌আমরা সংক্রমিত হলে আমাদের থেকে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। রোগীর মুখ থেকে নির্গত এরোসেল সব কিছুর মধ্যেই লাগবে। তাই ক্লিনিককে বিভিন্ন উপায়ে, প্রয়োজনে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। দিনে রোগী দেখার সংখ্যাও কমাতে হবে। চেম্বারে সব কিছু বজায় রাখতে গেলে অনেকটাই খরচসাপেক্ষ। সব ডাক্তারের পক্ষে তা বহন করা সম্ভবও নয়। এখনই না হলেও ভবিষ্যতে ফিস বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’‌
বিশিষ্ট দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (‌আইডিএ)–এর‌ পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ প্রবীরকুমার ব্যানার্জি বলেছেন, ‘দাঁতের চিকিৎসার জন্য যা যা করতে হয় সবটাই মুখের ভেতরকে কেন্দ্র করে। রুট ক্যানাল, স্কেলিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে মেশিনের চাপে মুখের ভেতর থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলবিন্দুর মতো এরোসেল বের হয়। সেক্ষেত্রে সংক্রমণের আশঙ্কাও বেশি। তাই নিজের, ক্লিনিকে এবং রোগীর আসা থেকে যাওয়া পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সুরক্ষাবিধি মানতে হবে। ফোনে বহু রোগী দাঁতের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। কিন্তু সব সমস্যার সমাধান ফোনে বা অনলাইনে সম্ভব নয়। এভাবে কতদিন আর চেম্বার বন্ধ রাখা যায়। বাড়তি সুরক্ষাবিধি অবলম্বনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন বহু চিকিৎসক। বেশ কিছু পরামর্শ আইডিএ থেকে দিয়েছে। আমি নিজেও দ্রুত চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করব।’‌  
দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘‌আইডিএ থেকে বেশ কিছু প্রোটোকল দিয়েছে, সেগুলি যতটা সম্ভব মেনে চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করব। আপাতত করোনাকে নিয়েই সবাইকে চলতে হবে। কাজও করতে হবে। অনলাইনে রোগীকে দেখে সাময়িকভভাবে পেন কিলার দেওয়া গেলেও অ্যান্টিবায়োটিক চট করে দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ।’‌
আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের চিকিৎসক ও আইডিএ–র রাজ্য সম্পাদক রাজু বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘‌লকডাউনের মধ্যে হাসপাতালের শুধু ইমার্জেন্সিতেই গুরুত্বপূর্ণ ২৭০টির মতো অপারেশন হয়েছে। একটা ডেন্টাল চেম্বার করতে গেলে অন্তত ৫–৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়। জেলা বা মফস্‌সলে আরও কঠিন পরিস্থিতি। বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন অনেকটাই ব্যয়সাপেক্ষ। এরপর ফিস বাড়ানো ছাড়া অনেকেরই উপায় থাকবে না। চেষ্টা করা হচ্ছে আইডিএ থেকে তাঁদের যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার। স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইনও আশা করি দ্রুত পেয়ে যাব।’‌
দন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচের দিকে না তাকিয়ে রোগী পরিষেবাই মূল উদ্দেশ্য। রোগীরা আগে দেখুক তাঁদের সুরক্ষার জন্যই আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি। তারপর রোগীরা বুঝেই ফি বেশি দিতে রাজি হবেন।’‌  
 

জনপ্রিয়

Back To Top