ডাঃ কৌশিক মজুমদার
বয়স্করোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা জয়ী

লকডাউনের জন্য আমি এখনও লন্ডন থেকে কলকাতায় ফিরতে পারিনি। এখন লন্ডনে রোগী দেখছি।  কলকাতায় ফিরেও দেখব। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি লন্ডনে এখনও খুব ভয়ঙ্কর অবস্থা। যতজনের মৃত্যু হচ্ছে তার মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কোভিড–১৯–‌এ অধিকাংশই মৃত্যু হচ্ছে বয়স্কদের কিংবা যাঁদের অন্যান্য কোনও রোগ আছে। নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ খাওয়ার ফলে ইমিউনিটি কমছে এরকম ক্ষেত্রে অত্যন্ত রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে এই ভাইরাস। লন্ডনে কাজ করতে করতে নিজেরও ৯ মার্চ করোনা হয়েছিল। এখন পুরোপুরি সুস্থ। এখানে মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরই হয়েছে। আমি যে হাসপাতালে রোগী দেখছি সেখানে গড়ে ১০০ জন করে করোনা রোগী ভর্তি হলে তার মধ্যে ৮০ জনই বয়স্ক মানুষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে এবং পশ্চিমি দেশগুলোতেও মানা হচ্ছে এই সময়ে বয়স্কদের বাধ্যতামূলকভাবে ঘরে থাকতে হবে। অন্তত ১২ সপ্তাহ অর্থাৎ তিন মাস বাড়িতে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকা। বাড়ি হোক বা বৃদ্ধাশ্রম যে যেখানে থাকেন এটি মেনে চলতে হবে। নির্দিষ্ট একটি ঘরে থাকবেন। মাস্ক, গ্লাভস পরতে হবে। ইমার্জেন্সি ছাড়া সেই ঘরে কোনও লোক ঢুকবেন না। অ্যাটেনডেন্ট না রাখাই ভাল। দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট কেউ থাকলে তিনি আর অন্য কোথাও যাবেন না। বাড়ির অন্য সদস্যদের একান্তই বেরোতে হলে ফিরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
বয়স্কদের অনেক সময় জ্বর নাও আসতে পারে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট তিনটে উপসর্গ একসঙ্গে নয় কোনও একটি দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। তেমন হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার, মাল্টিভিটামিন, পুষ্টিকর খাবার খেলেই চলবে। এসির ব্যবহার একদমই নয়। কারণ ঠান্ডায় ভাইরাস বেশি বৃদ্ধি পায়। অপরিষ্কার এসি ভাইরাসের উৎসস্থল। অন্যান্য সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে।  
(‌লন্ডন থেকে ফোনে জানিয়েছেন)‌  

জনপ্রিয়

Back To Top