ডাঃ অগ্নিমিতা গিরি সরকার
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ  

বড়দের তুলনায় শিশুদের কোভিড–১৯ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু শিশুদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায় বেশি।  আমাদের শরীরে এসিই–২ বলে এক ধরনের রিসেপটর থাকে, সেখানে ভাইরাসটা আটকে গিয়ে কোষের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এসিই–২ রিসেপটর প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই খুব বেশি ক্ষতি হয় না। এসিই–২ মানুষকে ভাইরাসের কুফলগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। কিন্তু বয়স বাড়লে এই রিসেপটরের সংখ্যা কমতে থাকে। ভাইরাস সবগুলোকে ব্লক করে দেয়। শরীরকে সুরক্ষিত রাখার সিস্টেমকে নষ্ট করে দেয় ভাইরাস। কোনওভাবেই আত্মরক্ষার জায়গা থাকে না। তাই বয়স্কদের সংক্রমণের হার বেশি। বেশিরভাগ শিশুই করোনা ভাইরাসের মতো অন্যান্য যে উপসর্গ যেমন সর্দি, কাশিতে ভোগে, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্ট্রং হয়। কিন্তু অসুস্থ হলে বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। যাঁদের একান্তই বাইরে বেরোতে হচ্ছে, তাঁরা বাড়িতে ফিরে প্রথমেই শিশুর কাছে যাবেন না। জামাকাপড় সাবান জলে ধুয়ে, ব্যবহৃত জিনিস ভাল করে স্যানিটাইজ করে, ভাল করে স্নান করে তারপরই শিশুর কাছে যাবেন। শিশুকে এক জায়গায় আটকে রাখা মুশকিল। শিশুর হাত ভাল করে ধোয়াবেন। নখ কেটে, চুল বেঁধে রাখবেন। কারণ শিশুরা চোখে, নাকে, মুখে হাত দেয়। তাই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি। যিনি শিশুর দেখভাল করছেন তাঁকেও অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। শিশুর ভ্যাকসিন যেন বাদ না পড়ে।

জনপ্রিয়

Back To Top