সংবাদ সংস্থা, জেনেভা, উহান: করোনা ভাইরাস শুধু ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না। এর ‌ক্ষমতা আরও বেশি। অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, এই ভাইরাস হার্টে থাবা বসিয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিগুলিকে দুর্বল করে নিঃশ্বাস–‌প্রশ্বাসের ছন্দটাই নষ্ট করে দেয়। করোনা ভাইরাস কিডনির এত বেশি ক্ষতি করছে যে, হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিটের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে চুপিসারে ঢুকে এই ভাইরাস স্বাদ ও গন্ধ–‌বিচারের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। মস্তিষ্কেও পৌঁছে যায়। এই ভাইরাস রক্ত জমাট বাধিয়ে হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে। আবার সারা শরীর জুড়ে রক্তবাহী ধমনীগুলিকে বিপজ্জনক ভাবে স্ফীত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মানে নোভেল করোনা ভাইরাসকে বোঝা খুব কঠিন। দেখা যাচ্ছে, মস্তিষ্ক থেকে পায়ের পাতা, যেখানে খুিশ হামলা চালাতে পারে এই ভাইরাস।
করোনার থাবা থেকে মুক্ত নয় শিশুরাও। যে–‌সব শিশু ডায়েরিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত অথবা যে–‌সব শিশু ‌সংক্রমিতদের কাছাকাছি থেকেছে, তারা  সংক্রমিত হতে পারে। এ কথা জানিয়েছে ফ্রন্টিয়ার্স ইন পেডিয়াট্রিক্‌স জার্নাল। জার্নালে বলা হয়েছে, যে–‌সব শিশু হজমের সমস্যা ও পেটখারাপে ভুগছে, তাদের পরিপাক যন্ত্রে সংক্রমণের সম্ভাবনা নিেয় সতর্ক থাকতে হবে।
দেখা যাচ্ছে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে শুরুতে সামান্য উপসর্গ থাকতে পারে কিংবা কোনও উপসর্গই না–‌থাকতে পারে। কয়েক দিন পর জানান না দিয়েই হঠাৎই ফুসফুস থেকে বাতাস টেনে বের করে নেয় এই রোগ। অন্য কোনও রোগে অসুস্থদের আগে ধরে করোনা, স্থূলরাও এর কোপে পড়েন। মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের বেশি ক্ষতি হয় এই রোগে। তবে সন্তানসম্ভবারা আক্রান্ত হলে জটিলতা দেখা িদতে পারে। এই ভাইরাস নিয়ে ১৪,৬০০ গবেষণাপত্র জড়ো করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবু করোনা ভাইরাসের ক্রমাগত রূপবদল নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলম্যান স্কুল অফ পাবলিক হেল্‌থের সেন্টার ফর ইনফেকশন অ্যান্ড ইমিউনিটির ভাইরোলজিস্ট অ্যাঞ্জেলা রাসমুসেন বলেন, ‘আসল কথা হল, এই ভাইরাস এতটাই নতুন যে, আমরা এর সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না।’
অন্য দিকে, চীনের টোঙ্গজি হাসপাতালের গবেষকেরা জানিয়েছেন, শ্বাসনালী ছাড়া দেহের অন্যত্র সংক্রমণের বিষয়টা প্রথম দেখা গেছে শিশুদের মধ্যে। এই ভাইরাস ফুসফুসের যে–‌কোষগুলিকে আক্রমণ করে, সেগুলো মানবদেহের অন্ত্রেও পাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগ শিশুর ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণের প্রভাব খুবই মৃদু। এই হাসপাতালের শিশু–‌চিকিৎসক ওয়েনবিন লি তঁার গবেষণাপত্রে লিখেছেন, কোনও শিশুর ফুসফুসের সমস্যা না–‌থাকলে বা অন্য কোনও অসুস্থতা থাকলে, সে যে কোভিডে আক্রান্ত, তা প্রথম দিকে বোঝা যায় না। তবে  অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যে–‌সব শিশু পেটের গোলমালে ভুগছে, তাদের জ্বর থাকলে বা তারা কোভিড রোগীদের কাছাকাছি এসে থাকলে, পরীক্ষা করে দেখতে হবে তারা করোনায় আক্রান্ত কি না। দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির সময় ওই শিশুদের শরীরে কোভিডের উপসর্গ তেমন থাকেই না। এর পর প্রতি ৫টি শিশুর মধ্যে চারজনের প্রথম উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় পেটের গোলমাল। পরে বুকের এক্সরে করে দেখা যায়, ওই সব শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তখনই স্পষ্ট হয় যে, তারা কোভিড১৯–‌এর রোগী। লি–‌এর আশা, এই সব তথ্যের ভিত্তিতে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসা শুরু করা যাবে। রোগ ছড়ানো কমবে। পেটের গোলমালও একটা পথ, যে–‌পথে কোভিড সংক্রমণ শুরু হয়। এটা বড়দের মধ্যেও দেখা যায়।

জনপ্রিয়

Back To Top