সাগরিকা দত্তচৌধুরি- সাধারণ মানুষ যে মাস্ক পরছেন তাতে নোভেল করোনা ভাইরাস আটকানো যায় না। অথচ এই মাস্কেরই দাম হু হু করে বাড়ছে। হচ্ছে কালোবাজারি। এই কালোবাজারি রুখতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইবি। একমাত্র করোনো সন্দেহজনক ও আক্রান্ত রোগী এবং যাঁরা চিকিৎসা করছেন তাঁদের জন্য এন৯৫ মাস্ক চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি যে সব মাস্ক বাজারে চলছে তা কোনও কাজের নয়। 
নোভেল করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এখন সকলেই মাস্ক পরছেন। রাস্তা–ঘাটে, বাসে, ট্রেনে, অফিস কাছারি সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে মানুষ মাস্ক পরে রয়েছেন। সকলের মাস্ক পরে থাকার দরকার নেই। আর পাতলা কাপড়ের সাধারণ মাস্কে আটকানো যাবে না এই ভাইরাস। এন৯৫ মাস্ক পরলে কিছুটা প্রতিরোধ সম্ভব। তবে সেটিও সকলের পরার প্রয়োজন নেই। অভিযোগ, পাতলা ১০–১৫ টাকার মাস্ক বিকোচ্ছে ৩০–৫০ টাকায়। ১৫০–৩০০ টাকার গুলো দাম ছুঁয়েছে ৫০০–৭০০ টাকা। কোথাও আরও বেশি দাম। যে যেভাবে পারছে দাম হাঁকছে। মাস্কের ব্যবহার নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেও পরিষ্কার বলা আছে যাঁর সর্দি, কাশি, জ্বরের উপসর্গ আছে তাঁর মাস্ক পরা দরকার। কিন্তু যাঁর কোনও প্রকার উপসর্গ দেখাই দেয়নি সুস্থ ব্যক্তির ব্যবহার না করলেও চলবে। তবে সুস্থ ব্যক্তি কোনও কারণে ভিড়ের মধ্যে গেলে সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরলে ভাল হয়। 
জনস্বাস্থ্য রোগ বিশেষজ্ঞ অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ডিরেক্টর–প্রফেসার ডাঃ মধুমিতা দুবে বলেন, ‘সকলে মাস্ক পরলেই রোগ ঠেকানো যাবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। জ্বর, সর্দি, কাশি হয়েছে এমন ব্যক্তির বাইরে না বেরোনোই উচিত। একান্তই কোনও জরুরি কাজে বেরোতে হলে উপযুক্ত সার্জিক্যাল বা মেডিক্যাল মাস্ক, টু বা থ্রি লেয়ার যুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা দরকার। সাধারণ মানুষকে এন৯৫ মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। তবে যাঁরা স্বাস্থ্যকর্মী, যাঁরা সংক্রামিত রোগীকে দেখছেন তাঁদেরকে অবশ্যই এন৯৫ মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক নিয়ে এখন কালোবাজারি হচ্ছে, ব্যবহৃত মাস্ক পুনরায় বাজারে বিক্রি হতেও শোনা যাচ্ছে। এতে হিতে বিপরীত হবে। এই সব বিষয়ের ওপর আরও বেশি করে নজর দেওয়া দরকার।’‌
ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সন্দীপন ধর বলেন, ‘‌সকলের মাস্ক পরার দরকার নেই। এতে আতঙ্কের সৃষ্টি হবে। কাপড়ের মাস্কে কোনও ভাইরাস আটকায় না। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, প্রেশার, শুগার, ক্যান্সারের মতো রোগে যাঁরা ভুগছেন তাঁরা বাইরে বেরোলে এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার করুন।’‌  

দিল্লিতে, সোমবার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top