ডাঃ সন্দীপন ধর: আতঙ্কের নাম ‘‌করোনা’‌। কিছু অসত্য‌ তথ্য ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। অসত্য তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করছে প্যানিক। এখন দেখছি বাচ্চাদের সর্দি–কাশি হলেই স্কুল যেতে নিষেধ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কলকাতার কিছু স্কুলে অভিভাবকদের বিধান দেওয়া হয়েছে, বাচ্চাদের মাস্ক পরিয়ে স্কুলে পাঠানোর। প্রথমেই বলি, কাপড়ের যে মাস্ক পরে মানুষজন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেগুলোতে করোনা কেন, কোনও ভাইরাসই আটকায় না। বরং মাস্কের সঙ্গে নাকের ঘষাঘষিতে কেউ যদি বার‌বার নাক ঘষেন বা চুলকান সেটা কিন্তু বিপজ্জনক। কারণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বলা হচ্ছে বারবার হাত দিয়ে নাক, কান ঘষবেন বা চুলকোবেন না। দ্বিতীয়ত, সবার মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ানোর কোনও মানে হয় না। এতে আর কিছু হোক বা না হোক একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। যাঁরা ক্যান্সারে আক্রান্ত, যাঁদের কেমো চলছে বা যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাঁরা মাস্ক পরুন। পরতে হলে ‘‌এন–‌‌৯৫’‌ মাস্ক ব্যবহার করুন। 
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজির মতে, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ভাল করে জানুন, কীভাবে নিজেকে প্রতিরোধ করবেন তা জানুন, নিজে আতঙ্কিত হবেন না এবং অন্যকে আতঙ্কিত করবেন না। 
করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা এবং কফ। উপসর্গগুলো একেবারেই ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো। তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে করোনা ভাইরাসকে আলাদা করা খুবই মুশকিল। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তকে করোনা সন্দেহে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হচ্ছে।  করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর হার মাত্র ২ শতাংশ। আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১। ২০০৩ সালে এসএআরএস (‌সার্স)‌ থাবা বসিয়েছিল ২৬টি দেশে। মৃত্যুর হার ছিল ১০ শতাংশ। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু–তে মৃত্যুর হার ৪.‌৫ শতাংশ। আর ২০১৪ সালে আফ্রিকা থেকে ছড়ানো ইবোলা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ছিল ২৫ শতাংশ। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১১,৩১০ জনের। বিস্মৃত হবেন না, আমাদের দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতিবছর ৩৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়। 
করোনা ভাইরাসে যে মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে সে সব রিপোর্ট স্টাডি করে দেখা যাচ্ছে মারা যাওয়া কেউই সুস্থ–স্বাস্থ্যবান নন। তাঁরা প্রত্যেকেই সিভিয়ার ইমিউনো–‌কম্প্রোমাইজ অর্থাৎ শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। অধিকাংশই কোনও না কোনও অসুখ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং অধিকাংশই প্রবীণ মানুষ। কোনও ক্রনিক অসুখে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলার পর তাঁর যখন মৃত্যু হচ্ছে, তখন তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে করোনা ভাইরাসকে। আদৌ করোনা ভাইরাস, না অন্য কোনও কারণে তিনি মারা গেছেন, সেটা একমাত্র ময়নাতদন্ত ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। অবিবেচকের মতো চিন্তাধারাই আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। 
শেষে বলি, ভাইরাস সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য জানুন। মেনে চলুন কিছু জিনিস, যেমন হ্যান্ডশেক না করা, কারও সর্দি হলে তাঁর থেকে নিজেকে দূরে রাখা, বারবার জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধোয়া, নিজের হাইজিন ঠিক রাখা আর কোনও গুজবে কান না দেওয়া। করোনা কোনও ‘‌কিলার ভাইরাস’‌ নয়। মৃত্যুর হার ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডায়েরিয়া বা দুর্ঘটনার থেকে অনেক অনেক কম।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top