সাগরিকা দত্তচৌধুরি: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকেও ক্যান্সার হতে পারে। মানসিক চাপ বেশি থাকলে ক্যান্সার আক্রান্তদের রোগ বেড়ে যায়। চাপমুক্ত থাকলে ক্যান্সার কমার পাশাপাশি চিকিৎসাতেও দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। মানসিক চাপ কমানো ছাড়া ক্যান্সারের চিকিৎসা অসম্ভব। কলকাতার এক বাঙালি চিকিৎসকের গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সেই গবেষণাপত্র সম্প্রতি স্বীকৃতিও পেয়েছে সুইডেনের স্টকহলমের আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে। 
মানসিক চাপ কি ক্যান্সার বাড়িয়ে দেয়? তাঁর গবেষণায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন মেডিসিন ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের চিকিৎসক দেবাশিস ঘোষ। অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে ক্যান্সার কোষ উৎপন্ন হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসার পদ্ধতির পাশাপাশি মানসিক চাপের প্রকোপ কমানো গেলে ক্যান্সার বাগে আনা সম্ভব। দেবাশিস জানাচ্ছেন, ‌২০১০ সাল থেকে তিনি গবেষণার কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে তাঁর স্ত্রীর ক্যান্সারে মৃত্যুর পর আরও জেদ চেপে যায়। তাঁর কথায়, ‘স্ট্রেস ক্যান্সারের উৎস আছে কিনা জানতে গবেষণা শুরু করি। এই বছরেই সেটা প্রমাণিত হয়। চাপ থাকলে ক্যান্সারজনিত জিন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সুস্থ মানুষের ক্যান্সার হওয়ার জিনগুলোকেও সক্রিয় করে তোলে। তবে বিভিন্ন ওষুধে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।’‌ 
ক্যান্সার চিকিৎসকরা তাঁদের অনেক রোগীকেই মনোবিদ দেখানোর পরামর্শ দেন। ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ সোমনাথ সরকার বলেন, ‘‌যে কোনও রোগেই রোগীর ওপর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক প্রভাব পড়ে। দেখছি অধিকাংশ ক্যান্সার রোগী হতাশা, মানসিক চাপে ভুগছেন। অনেকেই মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করছেন। প্রয়োজনে আমরা এ ধরনের রোগীদের সাইকোথেরাপিস্টের কাছে পাঠাই। কাউন্সেলিং করিয়ে তাঁর মানসিক অবসাদ কাটানোর চেষ্টা করি।’‌
দেবাশিস জানান, চাহিদা না মিটলেই মানসিক চাপ তৈরি হয়। মানসিক চাপে শরীরে কিছু প্রতিক্রিয়া হয়, যেগুলি ক্যান্সার রোগীদের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকারক। শরীরে এটিএফ–থ্রি জিন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। কেমোথেরাপির সময় ক্যান্সার কোষের পার্শ্ববর্তী স্বাভাবিক কোষগুলির মধ্যে এটিএফ–থ্রি জিনকে সক্রিয় হয়, যা রোগ ছড়াতে সাহায্য করে। স্বল্পদামী ওষুধে এটিএফ–থ্রি জিনকে দমিয়ে রাখা গেলে কেমোথেরাপির কার্যকারিতা যথেষ্ট বেড়ে যাবে বলে তাঁর দাবি। 
বেশি চিন্তায় শরীরে স্নায়ুজনিত রাসায়নিক ‘‌সেরোটোনিন’‌ বেড়ে যায়। ফলে শরীরে অক্সিন ও মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা কমে। অক্সিন শরীরের অপ্রয়োজনীয় প্রোটিনকে মারতে সাহায্য করে। সেরোটোনিন বাড়লে অক্সিনের কার্যকারিতার মাত্রা কমে যাওয়ায় শরীরে অপ্রয়োজনীয় প্রোটিন বেশি সক্রিয় হয়। মেলাটোনিন হরমোন কমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।  
দেবাশিসের দাবি, এইসব প্রতিক্রিয়া আটকানো ও সেরোটোনিনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় স্বল্পদামী কিছু ওষুধে। যা রোগীকে খাওয়ালে ক্যান্সার অনেকটাই হ্রাস পাবে। তাঁর আরও দাবি, আরেকটি সহজলভ্য ওষুধ ভ্যালপ্রোয়িক অ্যাসিড সেবনে অনেক ধরনের ক্যান্সার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মানসিক রোগের পাশাপাশি ‘এটি অ্যান্টি ক্যান্সার ড্রাগ’ হিসেবেও ভাল কাজ করে।

জনপ্রিয়

Back To Top